শিরোনামঃ

জলবায়ু পরিবর্তনে দ্বিগুণ সংকটে চরাঞ্চল : নাগরিক সমাজ

অনলাইন ডেক্স
জলবায়ু পরিবর্তনে দ্বিগুণ সংকটে চরাঞ্চল : নাগরিক সমাজ
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা জলবায়ু পরিবর্তনে সংকটাপন্ন উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের একটি উপেক্ষিত বাস্তবতা বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন, একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার সংকট; বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ আজ দ্বিগুণ সংকটে। দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত, সেখানে ‘উন্নয়ন’ শব্দটি যদি বাস্তব পরিবর্তন না আনে, তবে তা নিছক পরিসংখ্যানের উন্নয়ন হয়েই থাকবে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবেনা না, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএস্ও প্রসেস আয়োজিত ‘মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা চরাঞ্চলের একটি উপেক্ষিত বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তুলে ধরেন তারা। কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন বিডিসিএসও প্রসেস-এর সমন্বয়কারি মোস্তফা কামাল আকন্দ, স্যোসাইটি ফর ডেভোল্যাপম্যান্ট ইনশিয়েটিভের সহকারি পরিচালক সৈয়দ আশারফ হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের হেড-জলবায়ু পরিবর্তন এম. এ. হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিনামায় বলা হয়, প্রসবকালীন সেবার উন্নয়নে চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও নিরাপদ মাতৃসেবা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে ও ধাত্রীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে, আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাত্রীদের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে।দুর্গম এলাকায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স, ভাসমান ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিম চালু করে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী নিশ্চিত করে চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করে, যারা বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে দ্বিগুণ সংকটে রয়েছে। দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই থাকে না।

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। চরাঞ্চলে ৪জি নেটওয়ার্ক চালুর মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।এছাড়া তিনি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ মাতৃসেবাকেন্দ্র স্থাপন এবং ধাত্রীদের আধুনিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা জটিল পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসরত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ কমপক্ষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মোবাইল মেডিকেল টিম জোরদার করে সবচেয়ে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

এম. এ. হাসান বলেন, অসংখ্য চর রয়েছে উপকূলে, যেখানে লক্ষ-লক্ষ মানুষ বাস করে, কিন্তু নুন্যতম স্বাস্থ্যসেবা নেই, নেই কোন কমিউনিটি ক্লিনিক, অথচ এই ব্যপারে যথাযথ পদক্ষেপও দেখতে পাচ্ছিনা। চরাঞ্চলকে সাধারণ গ্রামীণ এলাকার অংশ হিসেবে বিবেচনা না করে ‘চরাঞ্চল স্বাস্থ্যখাত’ নামে পৃথক বাজেট লাইন প্রণয়ন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য বাজেট ও লক্ষ্যভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।