শিরোনামঃ

কুড়িগ্রাম আট চরের একমাত্র মাধ্যমিক, তাও ভাঙনের হুমকিতে

অনলাইন ড্রেস
কুড়িগ্রাম আট চরের একমাত্র মাধ্যমিক, তাও ভাঙনের হুমকিতে
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

আট চরের একমাত্র মাধ্যমিক, তাও ভাঙনের হুমকিতে

নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পর নতুন করে স্কুলঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এখনও চালু হয়নি পাঠদান। কুড়িগ্রামের সদরে ব্রহ্মপুত্রের চরের গোয়াইলপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি তোলা। কালের কণ্ঠ

 

আট চরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবলে পড়ে।

 

 

পরে দাদন নিয়ে নতুন করে শ্রেণিকক্ষের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, তবে তাতেও স্বস্তি নেই। দুই দিক থেকে আবারও প্রতিষ্ঠানটি গিলে খেতে উদ্যত হয়েছে নদ।

এমন অবস্থা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোয়াইলপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের।

 

 

 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা শাহজামাল সরকারের দান করা জমিতে ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮৮। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৩ জন। ২০০০ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

 

 

তবে এরপর গত ২৬ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউ বেতন-ভাতা পান না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরের বাসিন্দারা গরিব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য খরচ জোগাতে হয় শিক্ষকদেরই। তারা ব্রহ্মপুত্রের ওপারের যাত্রাপুর থেকে নৌকায় চড়ে বিদ্যালয়ে আসেন, যা প্রায় এক ঘণ্টার পথ। বিনা বেতনে কাজ করা শিক্ষকদের যাতায়াতও ব্যয়বহুল।

 

 

তবু হাল ছাড়ছেন না তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই মাস আসে ব্রহ্মপুত্র ধেয়ে আসে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ঘর ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পরও কিছুদিন পাঠদান চালু থাকে। তবে ভাঙা-গড়ার মধ্যে প্রায় দুই মাস বন্ধ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চরের উত্তরে বালুভরাটের পর নতুন করে বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা গ্রাম্য সমিতির কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাদন নিয়ে মাঠ ভরাট ও ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। তবে দুই দিক থেকে ব্রহ্মপুত্র এগিয়ে আসায় নতুন জায়গায়ও ঝুঁকিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এর ছেলে শিক্ষার্থীরা কৃষিসহ নানা কাজে যুক্ত হয়ে পড়ছে। আর বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

 

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নার্গিস আক্তার জানায়, আইরমারির চরে অনেক কষ্ট করে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হয় সে। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে ক্লাস না হওয়ায় লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হচ্ছে তার।

 

নার্গিস জানায়, এরই মধ্যে তার বেশ কয়েকজন সহপাঠীর বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে। তাছাড়া বিদ্যালয়টি চালু হলেও তা নিম্ন মাধ্যমিক হওয়ায় অষ্টম শ্রেণি পাশের পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার পড়ালেখার আর সুযোগ থাকবে না।

 

রাকিব হাসান ও হৃদয় হাসান নামের দুই শিক্ষার্থী জানায়, তারা এরইমধ্যে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তাদের মতো অনেক শিক্ষার্থী সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর কৃষি কাজে যুক্ত হয়েছে। কেউ কাজের সন্ধানে গেছে এলাকার বাইরে।

 

অভিভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল পাশের পর কেউ কেউ দূরবর্তী স্কুলে লজিং বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে থেকে পড়ছে। বাকিরা ঝরে পড়ে। তবে শেষ ভরসা হিসেবে যে স্কুলটি ছিল, তাও এখন বিলুপ্তির পথে।

 

গোয়াইলপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. শাহজামাল সরকার জানান, তিনি জমি দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। অনেক কষ্ট করে শিক্ষকরা বেতন না পেয়েও প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এমপিওভুক্তির জন্য বার বার আবেদন করেও সরকারের সাড়া মেলেনি।

 

শাহজামাল বলেন, নদীভাঙনে স্কুলটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এটি রক্ষা করা না গেলে আটটি চরের শিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

 

প্রধান শিক্ষক কোবাদ আলী বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে স্কুলটি নতুন করে নির্মাণ করে চালু করতে দেরি হচ্ছে। সরকারি সহায়তার আশায় দাদন নিয়ে মাটি ভরাট ও ঘর পূনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রব বলেন, চরাঞ্চলের ওই বিদ্যালয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে দীর্ঘ সময়েও সেটি এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি সবসময় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে। স্কুলঘর পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ আবেদন পেলে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।