কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব মডেলে যেতে চায় সরকার

অনলাইন ডেক্স
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব মডেলে যেতে চায় সরকার
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের দিকে অগ্রসর হতে চায় সরকার। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটে রয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা, নীতিগত সংকট এবং অতীতের স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি। এসব কারণে ব্যাংকিংব্যবস্থায় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না।

 

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ এখন ‘পাহাড়সম’ আকার ধারণ করেছে। পুনঃতফসিল সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, ফরেনসিক অডিট করা হলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঋণ-আমানত অনুপাতেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অতিক্রম করে অনেক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি। প্রথমত, গ্রাহকদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন গোপন ও অতিরিক্ত চার্জ কমাতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ত, আমানত বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব প্রণোদনা কাঠামো তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে, কারণ বর্তমান দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।উপদেষ্টা বলেন, বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ না করায় ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। এতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতার ঝুঁকি বাড়ছে।অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির হার কমে এসেছে এবং দারিদ্র্য বেড়েছে। বিশেষ করে যুব ও নারীদের মধ্যে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রবণতা উদ্বেগজনক। শিল্প খাতেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত। 

তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে পারলেই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

  • অনুষ্ঠান শেষে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ‘ইউসিবি ওয়ান’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। ব্যাংক জানায়, এখন থেকে এই এক অ্যাপেই সব ধরনের সেবা পাবেন ইউসিবির সব গ্রাহক। অনলাইনে কেনাকাটা, টিকিট কাটা, বিল পেমেন্টসহ সব ধরনের সুবিধা ‍যুক্ত করা হয়েছে এই অ্যাপে।
জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।