শিরোনামঃ

নরসিংদী বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় আগুনে দগ্ধ ম্যানেজারের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

অনলাইন ড্রেস
নরসিংদী বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় আগুনে দগ্ধ ম্যানেজারের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

 

নরসিংদীতে বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ দেশীয় মদের দোকানের ম্যানেজার তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

 

 

এ ঘটনায় প্রধান আসামি নিরালা আবাসিক হোটেলের মালিক জাহাঙ্গীর সরকারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত তানভীর আহমেদ রাব্বি নরসিংদী পৌর শহরের বেপারিপাড়ার মনির মিয়ার ছেলে।

 

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুর এলাকার বজলুল হক সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) এবং কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাব্বি পৌর শহরের বাজিরমোড় এলাকায় লাইব্রেরি পট্টিতে অবস্থিত একটি লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে কাজ করতেন।

 

 

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাহাঙ্গীর সরকার ওই দোকানে গিয়ে রাব্বির কাছে ১০ লিটার মদ বিনামূল্যে দাবি করেন। রাব্বি এতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর তাকে গালাগাল করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ লিটার মদ নিয়ে চলে যান তিনি।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদ সরকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে এসে রাব্বিকে খুঁজে বের করেন।

 

 

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সঙ্গে থাকা পেট্রল রাব্বির শরীরে ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে রাব্বির শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।

দোকানের অন্য কর্মচারীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর পর রাব্বিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

 

 

সেখান থেকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মনির মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে হাসপাতালে অনেক কষ্ট সহ্য করে মারা গেছে। এখন আমার পরিবারের হাল ধরার কেউ নেই। নাতনিসহ কীভাবে সংসার চালাব? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

 

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান জানান, নিহতের মা মিনু বেগম বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করে।

 

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, মামলার মূল অভিযুক্ত জাহিদ সরকার পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাব্বির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঢাকার শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।