ক্লিন ও গ্রিন সিটি রাজশাহী: যে শহরের রূপকথা গড়েছে শৃঙ্খলা ও ভালবাসা

ডিস্ক রিপোর্ট দৈনিক দেশের প্রত্যয়
ক্লিন ও গ্রিন সিটি রাজশাহী: যে শহরের রূপকথা গড়েছে শৃঙ্খলা ও ভালবাসা
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বাংলাদেশে কোনো নতুন শহরে পা রাখলে সাধারণত চোখে কী পড়ে? ধূলিধূসর আকাশ, মোড়ে মোড়ে ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়া ডাস্টবিন, যানজটে তোলপাড় সড়ক, আর হর্নের কানফাটা শব্দ। কিন্তু উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর রাজশাহীতে প্রবেশ করলে এই পরিচিত চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।

​সীমান্ত ঘেঁষে বহমান পদ্মা নদী কিংবা ঐতিহ্যের স্মারক কোনো রাজবাড়ির আগে যে জিনিসটি একজন আগন্তুকের মন কেড়ে নেয়, তা হলো এই শহরের অবিশ্বাস্য পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি সাজসজ্জা। ঝকঝকে তক তকে পিচঢালা সড়ক, নান্দনিক ফুটপাত, রোড ডিভাইডারে সারিবদ্ধভাবে ফুটে থাকা হরেক রঙের ফুল গাছ, আর সবুজ পাতার সমারোহ। দিনের আলো মিলাতেই আবার রূপ বদলায় শহরটি; আধুনিক রোডলাইটের সোনালি ও রঙিন আলোয় সেজে ওঠে এক মায়াবী রাজশাহী।

​কিন্তু কীভাবে সম্ভব হলো এই অলৌকিক পরিবর্তন? যেখানে দেশের অধিকাংশ শহর ময়লা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে রাজশাহী বহু বছর ধরে কীভাবে নিজের গায়ে ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর’ (Clean & Green City)-এর খেতাব ধরে রেখেছে?

​এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ এবং নাগরিকদের গভীর ভালোবাসা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বক্ষণিক তদারকি এর প্রধান কারণ। অন্য অনেক শহরের মতো দিনের বেলায় বর্জ্য অপসারণ করে শহরের পরিবেশ বিষিয়ে তোলা হয় না; বরং গভীর রাতে যখন পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেমে পড়েন রাজপথে। ভোর হওয়ার আগেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায় পথঘাট। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া ডাস্টবিন না রাখা এবং বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা শহরটিকে রেখেছে ময়লামুক্ত।

​এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে সবুজের ছোঁয়া। শহরের সড়কদ্বীপ, ফুটপাত এবং খোলা স্থানগুলোতে পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। শুধু বনায়নই নয়, রোড ডিভাইডারে বছরজুড়ে ফুটে থাকে নানা জাতের দৃষ্টিনন্দন ফুল। এর ফলে রাজশাহী পেয়েছে ‘গ্রিন সিটি’র তকমা, যা বায়ুদূষণ কমাতেও বিশ্বজুড়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বাতাসে ক্ষতিকর ভাসমান বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5) কমানোর ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল রাজশাহী শহর।

​তবে শুধু সরকারি বা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ দিয়ে এমন শহর বানানো সম্ভব হতো না, যদি না রাজশাহীবাসী নিজের শহরকে নিজের বাড়ির মতো না ভালোবাসতেন। রাজপথকে পরিষ্কার রাখার এক অদৃশ্য সাংস্কৃতিক অভ্যাস গড়ে উঠেছে এখানকার মানুষের মাঝে। তামাকের পিক ফেলা থেকে শুরু করে ফুটপাতে ময়লা ফেলা—যেকোনো কিছু করার আগে নাগরিকেরা থমকে দাঁড়ান শহরের রূপ দেখে।

​রাজশাহী আজ শুধু একটি ভৌগোলিক প্রশাসনিক অঞ্চল নয়; এটি বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ইট-কাঠ-পাথরের যান্ত্রিকতার যুগেও যে আন্তরিক ইচ্ছা, সচেতনতা এবং সঠিক পরিকল্পনা দিয়ে একটি শহরকে ছবির মতো সুন্দর ও নিঃশ্বাস নেওয়ার উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তোলা যায়—রাজশাহী প্রতিদিন সেই গল্পই বলে যাচ্ছে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।