রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

হাওরের কৃষক বাঁচাতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

অনলাইন ড্রেস / ১৯ প্রকাশিত সময়:
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

হাওরাঞ্চলের কৃষকের সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। সামগ্রিকভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

 

রবিবার (৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক উদ্যোগের যৌথ আয়োজনে ‘হাওর অঞ্চলে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং হাওরবাসীর দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

 

বাপা সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। আমিনুর রসুলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা, সুনামগঞ্জ সমিতি ঢাকার সাবেক সভাপতি ডা. ওমর খৈয়াম, হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র সমন্বয়ক ড. হালিমদাদ খান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রুহিন হোসেন প্রিন্স। এ ছাড়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।লিখিত বক্তব্যে কাসমির রেজা বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা এখন চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন।

 

 

চলতি বোরো মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত টানা তিন দফা বৃষ্টিপাত এবং ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কমপক্ষে ৭৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া শিলাবৃষ্টিতে আরো প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বন্যা কৃষকদের আরো বড় ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে উল্লেখ করে রেজা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাওরের বোরো জমির ধান কাটা বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পচে গেছে।

 

পানির তোড়ে মাড়াই করা ধান খোলা থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছে, ধান নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন হাওরের কৃষক।’

এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘ফসলহানির কারণে কৃষকদের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যাহত হবে। হাওরের এ সংকট শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সংকট। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিচ্ছে।এতে কৃষকরা কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।’

হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র সমন্বয়ক ড. হালিমদাদ খান বলেন, ‘দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে আসে। ফলে হাওরের ফসলহানি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।’

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে সতর্ক থাকতে হবে। এটি যেন পক্ষপাতদুষ্ট না হয়। এ ফসলহানির ফলে বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক সংকট দেখা দেবে। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বর্গাচাষি মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা প্রদান করতে হবে।’

 

অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘এবারের সংকট কেবল প্রাকৃতিক নয়, এটি নীতিগত, পরিকল্পনাগত ও ব্যবস্থাপনাগত সংকট। নদীর নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব এবং অনিয়ম-দুর্নীতি পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।’

 

ডা. ওমর খৈয়াম হাওরের ভিন্ন ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে হাওরের জন্য স্বতন্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি করেন।

 

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘হাওর রক্ষা বাঁধের নামে বছর বছর শত কোটি টাকার লোপাট হয়। এ অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার না গেলে হাওরকে বাঁচানো যাবে না। হাওরের বাস্তুতন্ত্র বিবেচনায় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। উত্থাপিত দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বছরব্যাপী পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাল ও কমপক্ষে এক হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান, নদী-খাল ও বিল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা, ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর স্লুইসগেট নির্মাণ, হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে চালের বদলে কমপক্ষে ১০ লাখ টন ধান সরাসরি ক্রয়, সুদমুক্ত ঋণ ও ঋণের পুনঃতফসিল, কমিউনিটি মাড়াইকেন্দ্র ও ড্রায়ার স্থাপন, বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জলমহালের লিজ বাতিল করা, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জলবায়ু তহবিল থেকে হাওর অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি।


More News Of This Category