কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ১০ ঘণ্টা পার হলেও তাকে ছাড়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
এদিকে তাকে আটকের পর থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে রেখেছে দলটি শতাধিক নেতাকর্মী।
এর আগে আজ রবিবার (৩ মে) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর শাসনগাছা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করে পুলিশ।
পরে তাকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নেওয়া হয়৷ সেখান থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল আনা হয়। তবে ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে রাত ৯টায়ও তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি।
পুলিশের একটি গোপন সূত্র বলছে, কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শাসনগাছা এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে সড়কে শুয়ে ঘণ্টাব্যাপী প্রতিবাদ জানায় সিএনজি অটোরিকশার
চালকরা।আটক রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও রয়েছেন।
এদিকে রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের খবরের পর তার অনুসারীরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। পরে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ বাধ্য হয়ে থানার মূল ফটক বন্ধ করে দেন।
এর আগে তারা নগরীর শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় । এসময় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় তার অনুসারীরা। পরে বিভিন্ন এলাকায় বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়৷
এ বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকবার করে ফোন করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুপুরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।
এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, আটকের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেটির সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগকারী নেই।