রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কর্মচারীদের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। আহত শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাবি স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ এবং পরবর্তীতে মূল স্টেশন ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিকিট কাটা বা স্টেশন এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেলওয়ে কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আইয়ুব আলীর ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, মাথায় প্রচণ্ড আঘাতে তার ‘ব্রেন হেমারেজ’ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিক্ষার্থীকে মারধর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাবি সংলগ্ন স্টেশন এলাকার চারুকলার সামনের রেললাইনে কাঠের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। এতে রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে রাজশাহী মূল রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও করেন। তারা দোষী কর্মচারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। রেলওয়ে কতৃপক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্টেশন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছেন।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।


















আপনার মতামত লিখুন :