বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট ও আমদানিনির্ভরতা ঝুঁকি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গ্রিনওয়াচ নিউজ ম্যাগাজিন ও অনলাইন পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রধান বক্তা ছিলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিসিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জাকির হোসেন খান।সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হক, প্রতিবন্ধী মানুষের বিশ্ব সংগঠন ডিপিআই সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজসহ প্রমুখ। বৈঠকে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামগ্রী ও ব্যাটারির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় বর্তমানে এ খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।তাদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে সরকার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালেই অর্জন করা সম্ভব।
প্রধান বক্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসেন খান বলেন, কার্বন ট্যাক্স আরোপ করলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন সম্ভব। পাশাপাশি কার্বন ট্রেডিং, যাকাত ও দানের মতো বিকল্প অর্থায়ন উৎস ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী তহবিল গঠন করা যেতে পারে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে সহায়ক হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করলে এ খাতে এক ধরনের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ভারতে মোট জ্বালানির প্রায় ৫১ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে এবং পাকিস্তানও তা বাড়িয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। সেখানে বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৫ শতাংশের মতো, যা উদ্বেগজনকভাবে কম।
বক্তারা আরো বলেন, ট্যাক্স কাঠামোর জটিলতার কারণে আধুনিক সৌর প্রযুক্তি দেশে সহজে প্রবেশ করতে পারছে না। অথচ বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি উৎসগুলোর একটি। এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স নীতির সংস্কার জরুরি বলে তারা মত দেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমপ্রসারণে তারা কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাবও তুলে ধরেন। এর মধ্যে
রয়েছে, প্রতিটি স্কুল-কলেজের ছাদে রুফটপ সোলার স্থাপন, গৃহভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা।
বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার মেগাওয়াট হলেও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এর অবদান ৫ শতাংশেরও কম। বক্তাদের মতে, বাজেটে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বৈঠকে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো সময়ের দাবি।