সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্য থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে

অনলাইন ডেক্স / ৪০ প্রকাশিত সময়:
বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্য থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করেন, বাংলাদেশে যেহেতু এসব পণ্যের তেমন ব্যবহার নেই, তাই এটি নিষিদ্ধ করলে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এতে কয়েক কোটি কিশোর-তরুণ এর ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী থেকে ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিষিদ্ধের বিধানটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। অথচ তামাক বিশেষজ্ঞগণসহ বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিধানটি যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৩০ ডিসেম্বর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশের ৬/গ ধারায় ই-সিগারেটসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়। এই বিধান লঙ্ঘন করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয় জারীকৃত অধ্যাদেশে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিষিদ্ধের বিধানটি বাদ দেওয়ার আলোচনায় বহুজাতিক তামাক কম্পানি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের হাত রয়েছে। চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশন (এসএসএফ) নামে একটি বেসকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ‘হার্ম রিডাকশন’ (ক্ষতি কমানো) স্লোগানে ই-সিগারেটসহ নানা ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্য প্রমোশনে কাজ করে। এসএসএফ-এর অন্যতম দাতা সংস্থা হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক কম্পানি ‘ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল’ পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল অ্যাকশন টু অ্যান্ড স্মোকিং’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এসএসএফের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।এই সংযোগের কারণে তিনি সংশোধিতব্য আইন থেকে ই-সিগারেটসহ ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসমূহ নিষিদ্ধের বিধানটি বাদ দিতে প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, তারা তাদের ব্যবসা সিগারেট থেকে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের বৈশ্বিক মোট আয়ের ৪২ শতাংশই আসে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস থেকে যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা তাদের ব্যবসার শতভাগ ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। ফিলিপ মরিস ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচের মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান।বাংলাদেশেও তারা নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর তা থমকে যায়। তাই সংশোধিত আইন থেকে বিধানটি বাদ দেওয়ার জন্য তারা জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

 

একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচসহ ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস প্রচলিত তামাকের মতোই আসক্তি সৃষ্টিকারী এবং কখনো এটি তামাকের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত।

‘ই-সিগারেট’ ও ‘নিকোটিন পাউচ’ আসক্তিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতার পর ইতিমধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সিঙ্গাপুর, রাশিয়াসহ ১১টি দেশ ‘নিকোটিন পাউচ’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং এর ব্যবহার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ৩৪টি দেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটিকে নির্মূল করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল,  সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ভারতসহ বিশ্বের ৪৭টি দেশ ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

 


More News Of This Category