শিরোনামঃ
ঈদের দিন ৫ বিভাগে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা, কমতে পারে তাপমাত্রা কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি : মির্জা ফখরুল পশুর হাট এলাকায় ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়ানোর নির্দেশ কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ ফরিদপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে আইনজীবীদের মানববন্ধন ফরিদপুরে বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে জমজমাট পতাকা ও সামগ্রীর বেচাকেনা ফরিদপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ ফরিদপুরে অস্থায়ী খাসি-ছাগলের হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

আগামীর সময়ের প্রথম পুরস্কার, আমার ভাবনাগুচ্ছ ও কিছু অপ্রকাশিত কথা

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৬১ প্রকাশিত সময়:
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, বক্তা হিসেবে আমি খুব একটা পারদর্শী নই। বলার সময় কী বলব, কী বলব না— এসব ভাবতে ভাবতেই তালগোল পাকিয়ে যায়। তাই ভাবনাগুলো লিখে প্রকাশ করা সেই অর্থে অনেক বেশি সহজ। স্বচ্ছন্দও বটে।

শুরুটা দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার গুলশানের ক্যাম্প অফিসে। মার্চের প্রথম দিন জয়েন করি। পূর্ব পরিচিত বলতে পত্রিকার বার্তা সম্পাদক, কবি জুয়েল মোস্তাফিজ ভাই। সদ্য পরিচয় ঘটে কান্ট্রি এডিটর আবুল হাসান হৃদয় ভাইয়ের সঙ্গে। প্রথম দিন কিছু না করেই দিন চলে যায়। এভাবে এক দিন, দুই দিন পার। অফিস চলছে, অথচ আমার কোনো কাজ নেই। মহাবিপদে পড়া গেল। চাকরিটা সত্যিই হয়েছে তো? কোনো কাজ তো দিচ্ছে না কেউ। বসে বসে আড্ডা দিয়ে মাস শেষে অফিস যদি বেতন না দেয়? না দিলে চলব কী করে? এমন আকাশ-পাতাল ভাবনা। একদিন জুয়েল ভাই এসে বললেন, ‘মফস্বল পাতায় কী কী করা যায়, এমন কিছু আইডিয়া দিন তো।’ তার মানে রিপোটিং বস আমার কাছে কিছু চাচ্ছেন। যাক নিশ্চিন্ত। চাকরি আছে। বললাম, ‘ঠিক আছে। আমি ভেবে কাল-পরশু দিচ্ছি।’ পর দিন কিছু আইডিয়া লিখে তাকে হোয়াটঅ্যাপে পাঠালাম। তিনি দেখলেন কি না, ঠিক বুঝতে পারলাম না। নিরুত্তর। প্রিন্ট করে তার সামনে রাখি। সেটিও দেখার সময় পাচ্ছেন না নানা ব্যস্ততায়। এর আরও দুই দিন পর আরও কিছু আইডিয়া নিয়ে প্রিন্ট করে তার সামনে রাখি। এভাবে জমা হতে থাকল কাগজের পর কাগজ।

প্রথম দুই-তিন দিনেই বুঝতে পারি, এটা কোনো গতানুগতিক পত্রিকা হচ্ছে না, কোনো স্বপ্নকে ছুতে চাচ্ছেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন ভাই। তখনও স্পষ্ট নয়, কী স্বপ্ন? তবে নতুন কিছু হচ্ছে, সেটি দিব্যি আঁচ করতে পারছিলাম। চাচ্ছিলাম, আমার আইডিয়াগুলো সম্পাদক দেখুক, ভালো-মন্দ কিছু বলুক। যদি কিছু কাজে লাগে। চাকরিটা কনফার্ম কিনা, সেটি আরও একবার কনফার্ম হই। ধারণা ছিল, আমার আইডিয়াগুলো নিয়ে মামুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলবেন জুয়েল ভাই। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। আমার ভাবনাগুলো তার টেবিলে গড়ায়, বাতাসে ওড়ে। একদিন দেখি টেবিলের তলে আমার দেওয়া একটি কাগজ চিৎ হয়ে পড়ে আছে। ধুলা ঝেরে ফ্লোর থেকে সেটি তুলে আবার জুয়েল ভাইয়ের টেবিলে এমনভাবে রাখি, যেন চোখে পড়ে। আইডিয়া আর দেখা হয় না তার।

কয়েক দিন পর জুয়েল ভাই আবার হুট করে বলেন, ‘অঞ্জন, আপনাকে না আইডিয়া দিতে বলেছিলাম, সেগুলোর কী অবস্থা?’ আমি তো আকাশ থেকে পড়ি। বলেন কী? তার মানে এই কয় দিন যা যা করেছি, তার সবই গেছে বেনো জলে ভেসে? আবার প্রিন্ট করি। তার সামনে রাখি। তিনি দ্রুত চোখ বোলান। কিছু ভালো লাগে, বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই চুপ। মন ভালো থাকলে বলেন, ‘বাহ! এটা খুব ভালো লেগেছে।’ ‘ওটা আরেকটু ভালো হতে পারতো।’ আমি আহ্লাদে গদগদ। মেজাজ খারাপ থাকলে নাক দিয়ে গম্ভীর স্বরে ‘হুম’ শব্দ তুলে বলেন, ‘ধুর! কিছুই হয়নি।’ আমি আশাহত।

তখন সবে গরমের সিজন শুরু। রায়েরবাজার থেকে যেতে হয় গুলশান অ্যাভিনিউ। অনেকটা পথ। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। তার ওপর একটাই মাত্র বাস। আলিফ পরিবহন। বাসা থেকে দুই তিন ভাগে এসে বাস ধরি শিয়া মসজিদ থেকে। প্যাসেঞ্জারে ঠাসাঠাসি। বাসে বসে বসে ঘামি। সিটে পেলে এয়ার ফোন গুজে গান শুনি। বব ডিলান, লিও সায়ার থেকে মান্না দে-হেমন্ত হয়ে মৌসুমী ভৌমিক। ফাঁকে মোবাইলের নোটপ্যাডে মাথায় যা আসে লিখে রাখি। এভাবে জমতে থাকে ভাবনা। সম্পাদকের কাছে সেগুলো আর পৌঁছে না। এভাবেই আমার ঘাম ঝরানো (আক্ষরিক অর্থেই বাসে ঘামতাম) আইডিয়াগুলো জুয়েল ভাইয়ের টেবিলে কাগজের স্তূপে চিড়াচ্যাপ্টা হয়। একবার ভাবলাম, সব প্রিন্ট নিয়ে বেনামে কুরিয়ার করে সম্পাদক বরাবর পাঠিয়ে দেব।

এর মধ্যেই ক্যাম্প অফিস শেষে সবাই চলে আসি কারওয়ান বাজারের মূল অফিসে। তখনও অনেকই জয়েন করেননি। টুকটাক কাজ। এপ্রিলের প্রথম দিন অফিস ভরে যায়। প্রায় সবাই নতুন কলিগ। ব্যস্ত হয়ে উঠি কাজে। একদিন আচমকা ঘটে এক ঘটনা। অফিসে ঢুকেই চোখে পড়ে একটি বড় কাগজের বক্স। তার গায়ে লেখা ‘আইডিয়া দিতে টাকা লাগে না’। ইনোভেটিভ আইডিয়া ফ্রম এডিটর। এই চান্স কী করে হারাই? সেই বক্সে কাগজ ফেলতে থাকি চিঠি যুগের মতো।

মামুন ভাই আমাদের সঙ্গে বসেন। বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ টিপস দেন। স্বপ্নময় কথা শেয়ার করেন। নিজে হাসতে ও অন্যকে হাসাতে ভীষণ ভালোবাসেন। হাসতে হাসতে খুব জটিল ও সিরিয়াস কথা বলেন। রসিকতার লেভেল খুবই হাই। এমন পার্সোনালিটি সম্পন্ন sharp-witted মানুষ এই প্রথম দেখা। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার কথা শোনা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বোরিং তো লাগেই না, বরং পেটে খিল ধরে। দিন দিন আরও বেশি own করতে থাকি অফিস। সেই স্বপ্নের সঙ্গী হতে নতুন উদ্যোমে আরও ভাবনা জমা দিতে থাকি আইডিয়া বাক্সে। এর মধ্যে অনেকগুলো মিটিং করেন সম্পাদক। কিন্তু কারো কোনো আইডিয়া নিয়ে কথা ওঠে না। তার মানে আবারও গেল!

১৭ মে, রবিবার। পরের দিন পত্রিকা বাজারে আসবে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারো। বিকাল ৪টায় সবাইকে এক ফ্লোরে ডাকলেন সম্পাদক। পত্রিকার প্রকাশের আগে একবার টিমের সঙ্গে কথা বলবেন। আগেই ঘোষণা ছিল সে কথা। কাজের মূল্যায়নে পুরস্কারও দেবেন। মনে মনে ধরে নিয়েছি, আমার কোন কলিগ পুরস্কারটি পাচ্ছেন। যাই হোক, সেদিন মামুন ভাইয়ের গলায় নার্ভাসনেস। কাগজ বের হতে যাচ্ছে। টেনশনে হাত কাঁপছে। এক হাতে চেপে ধরেন আরেক হাত। মাথায় পত্রিকার চিন্তা। দ্রুত লয়ে কিন্তু স্পষ্টভাবে কথা বলা সেই সহজাত হাস্যরসে কিছুটা ঘাটতি। তবে চেষ্টা অব্যাহত। টিমকে উদ্দীপ্ত করা কিছু বক্তব্য। এরপরই পুরস্কার ঘোষণার পালা। এসির নিচে মামুন ভাইয়ের কপালে মৃদু ঘাম, হাস্যোজ্জ্বল মুখ। কিছু ভূমিকা। সাসপেন্স। আরও কিছুটা প্রিফেস। থ্রিল। কৌন বানেগা অজ্ঞাত পতি? এ যেন ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টান টান ম্যাচ। দুই পক্ষের এক এক গোল। সময় বাকি মাত্র পাঁচ মিনিট। গ্যালারিতে দম আটকানো উত্তেজনা। প্রথমেই আমার নাম। মানে কী? ঠিক শুনলাম তো? জোরে ডাকলেন মামুন ভাই। তখনও ঘোর কাটেনি।

প্রথম প্রশ্নেই বিব্রতকর অবস্থা, ‘এত আইডিয়া কেন? এর পেছনে আসল কারণটা কী, একটু খুলে বলো তো দেখি? বলো, বলো, যা বলবে জোরে বলবে।’

এ যেন ক্রিকেটার ইনজামাম-উল-হককে ইংলিশে প্রশ্ন করার পর সিচ্যুয়েশন। নার্ভাসে দুই-একটা কথা বললাম। আসল প্রশ্নেরই উত্তর দিতে ভুলে গেলাম। হাতে খাম তুলে দিলেন সম্পাদক। ছবি ও হাততালি। খাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে যায় বাক্সের গায়ে লেখা পুরো লাইন। ‘আইডিয়া দিতে টাকা লাগে না, আইডিয়া দিলে টাকা মেলে।’ আয়োজন শেষে আড়ালে খাম খুললাম। সত্যিই সেখানে এক হাজার টাকার একাধিক নোট। আনন্দ ও বিস্ময়ে মাখামাখি অবস্থা। মুহূর্তেই চোখে ভেসে ওঠে ট্রফিতে ম্যারাডোনার চুমু খাওয়ার ভিউ কার্ড। আমার কাছে ছিয়াশির সেই বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে এটি কম কীসে? সহকর্মীরা বায়না ধরলেন, ‘মিষ্টি খাওয়াতে হবে দাদা।’ তাদের সেই আবদার কি ফেলা যায়?

পরিশিষ্ট : আমার ভাবনায় যিনি পুরস্কার পাবেন বলে মনে মনে ধরে রেখেছিলাম, কান্ট্রি টিমের সেই লিডার আবুল হাসান হৃদয় ভাই পুরস্কার পেয়ে আমার সেই ভাবনাও সত্যি করলেন।

 


More News Of This Category