সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

সয়াবিনের ভরা ফলনেও দুঃশ্চিন্তা যায়নি কৃষকের

অনলাইন ডেক্স / ৪২ প্রকাশিত সময়:
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

বিস্তৃত মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। মাঝেমধ্যে ছোপ ছোপ হলুদ। সয়াবিনের পরিপক্ক পাতা হলুদ রং ধারণ করায় এমন রূপ। যেদিকে চোখ যায় শুধু সয়াবিন আর সয়াবিন।মৃদু হাওয়ায় দোল খাচ্ছে সয়াবিনের পাতা। ফসল ঘরে তুলতে মাঠে ব্যস্ত কৃষক।

 

সয়াবিনের ভরা ফলনের এমন চিত্র লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন কৃষিজমিতে। এ অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষক এবারও সয়াবিন চাষ করেছেন।

কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সয়াবিন কাটা ও মাড়াইয়ে। কিছু দিন পরই এ ফসল ঘরে তোলার কাজ শেষ হবে। 

তবে সয়াবিনের বাম্পার ফলনেও মলিন কৃষকের মুখ। আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হলেও সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় সয়াবিন চাষিরা।

গত বছরের তুলনায় এবারও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তারা। বাজারে দাম কম হলে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলে প্রায় দুই যুগ ধরে চাষ করা সয়াবিন চাষ করা হচ্ছে। এ জেলাকে বলা হয় সয়াল্যান্ড। জেলার রামগতি উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও কমলনগর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে।

দেশে মোট উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ শতাংশই মিলছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। এ জেলার মধ্যে রামগতি-কমলনগরে এবার সয়াবিন চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে ১৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর, রামগতিতে ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে কমলনগরে ২৫ হাজার আর রামগতিতে ২০ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।

দুই উপজেলায় মোট ৪৫ হাজার ২২০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি কর্মকর্তাদের। তারা জানান, এ অঞ্চলের মাটি সয়াবিন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

রামগতি উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, চলতি বছরে তিনি প্রায় দুই একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছেন। গত বছর করেছিলেন দেড় একর জমিতে। তিনি জানান, ফসল ঘরে আনা পর্যন্ত তার মোট খরচ হবে ৩০ হাজার টাকার মতো। উৎপাদন স্বাভাবিক হলে শত মণের বেশি সয়াবিন পাওয়া যাবে।

চরআফজল গ্রামের কৃষক আলী আহমেদ জানান, তিনি ৯০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন চাষ করেছেন। সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় এবার সয়াবিনের ফলন ভালো হয়েছে। এতে বেশ আনন্দিত হলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তিত তিনি।

কমলনগর উপজেলার চরপাগলা গ্রামের কৃষক হোসেন আহমদ জানান, তিনি এক একর ৪০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন চাষ করেছেন। সয়াবিন আবাদে খরচ

কম। রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদের পদ্ধতি সহজ। সয়াবিন বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় ধানের চেয়েও বেশি। তাই দিন দিন কৃষকরা সয়াবিন চাষে আগ্রহ হচ্ছে। কিন্তু দাম নিয়ে বেশ টেনশনে রয়েছেন তিনিও।

সয়াবিন ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৭০ শতাংশের বেচাকেনা হয় এ অঞ্চলে। দুই উপজেলায় রয়েছে প্রচুর সয়াবিন ব্যবসায়ী। বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে সয়াবিন ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায় এ অঞ্চলে।

রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান ও কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম বলেন, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।  মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে ছিল। তিনি বলেন,

সময়মতো সার বীজ ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহায়তা করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সয়াবিনের ভালো ফলন হয়েছে। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ হবে।


More News Of This Category