আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক দম্পতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর বিচারিক আদেশে তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সমর কুমার ঝাঁ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার সাবেক অফিস সহকারী (বর্তমানে বরখাস্তকৃত) মো. শামসুল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী মোছা. মায়া ইসলাম (৪৫)। পরে বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রংপুরের তাজহাট থানায় শামসুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে থেকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ধরনের কঠোর শাস্তি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান করলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আদালতের এ রায় সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার বাদী এবং দুদকের সমন্বিত রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সমর কুমার ঝাঁ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’