ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১১টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলটি ৩ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা দল জামায়াতে ইসলামী ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি ভোট পেয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঝুঁড়িতে গেছে ২২ লাখের বেশি ভোট।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করা বিএনপি প্রার্থীরা মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯ ভোট। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫, যার হার ৩১.৭৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৫.৭৯ শতাংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট (৩.০৫%) পেয়ে আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছে।
বিগত তিনটি নির্বাচনে বিরোধী দলের আসন দখল করে রাখা জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও দলটি ভোট পেয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২টি (০.৮৯%)। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদ প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার এবং এবি পার্টি ২ লাখ ১০ হাজার ভোট পেয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের ঘরে ভোট পেয়েছে ১২টি দল। এর মধ্যে নতুন নিবন্ধন পাওয়া জনতার দল ৩৭ হাজার ৪০১ ভোট এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) পেয়েছে ১৩ হাজার ২৩৫ ভোট।
নির্বাচনে অনেকে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের বৃত্তে আটকে ছিলেন।
প্রভাবশালী নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য পেয়েছে ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট। অনশন করে নিবন্ধন পাওয়া তারেকের আমজনতার দল সারা দেশে পেয়েছে ৬ হাজার ২০৯ ভোট। আর ড. কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠিত গণফোরাম পেয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬৬ ভোট।
এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫টি দল সারা দেশে ১ হাজার ভোটও সংগ্রহ করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি।
সূত্র কালের কণ্ঠ