বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সমন্বয় এবং বেসরকারি খাতের প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রপ্তানি উন্নয়ন (ইপিবি) কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর আওতায় রপ্তানির সম্ভাবনা : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে সরকার, বাণিজ্য সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে জাপান বাংলাদেশ চেম্বারঅব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) সাভা তারেক রাফি ভূইয়া, ইপিএর গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, এ চুক্তি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে মানসম্মত কমপ্লায়েন্স, প্রস্তুতি এবং কৌশলগত সম্পৃক্ততা জরুরি।
জাপানের বাজার প্রবণতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বিষয়ে উপস্থান করেন আরএক্স জাপান লিমিটেড নির্বাহী কর্মকর্তা হাজিমি। তিনি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জাপানে আয়োজিত বাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আলোচনায় টেক্সটাইল, আইসিটি ও ডিজিটাল সেবা, সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধশিল্প, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি এবং কেয়ারগিভিং, নার্সিং ও ফিনটেক খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
একই সঙ্গে রুলস অব অরিজিন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এলডিসি সুবিধা হারানোর পর অনেক উন্নত বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে জাপানের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ উৎস। প্রস্তাবিত ইপিএর আওতায় পণ্য বাণিজ্যে শুল্ক সুবিধা, সেবা খাতে প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব এবং বাণিজ্য সহজীকরণসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজন রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান পূরণে সক্ষমতা উন্নয়ন।
সভা শেষে টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ–জাপান ইপিএ কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।