প্রধান শিক্ষকের অশালীন আচরণে অতিষ্ঠ পাঁচ সহকারি শিক্ষিকা!
মোঃ ইনসাফ আলী
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
প্রচন্ড পেটের ব্যাথায় অসুস্থ্য হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বমি করে ফেলে প্রথম শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থী। সহকারি শিক্ষিকা শিশুটিকে উদ্ধার করে শ্রেণীকক্ষে নিয়ে এসে মাতৃসুলভ মমতায় সেবা করেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শ্রেণীকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সামনেই সহকারী শিক্ষিকাকে মারতে উদ্যত হন। বিষয়টি দেখে বাকী শিক্ষিকাগণ প্রতিবাদ করতে এলে তাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হন প্রধান শিক্ষক
গত ৪ আগষ্ট এমন ঘটনা ঘটে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহ কারণে-অকারণেই শিক্ষিকাদের ওপর এমন অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শামীমা জাহান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কোমলমতি শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লেও প্রধান শিক্ষক অফিসরুম থেকে বের হন নাই। আমি যখন শিশুটিকে নিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকছিলাম। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমাকে বেয়াদব বলে গালি দেন। এক পর্যায়ে আমাকে মারতে আসেন। অন্যান্য শিক্ষিকারা প্রতিবাদ করতে এলে তাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন।সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও ছাত্র-শিক্ষিকাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন ওই বিদ্যালয়ের ৫জন সহকারি শিক্ষিকা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা
অভিযোগকারি শিক্ষিকারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পৈশাচিক নির্যাতন সহ্য করে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তারা দাবি করেন নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, বাজে ভাষায় কথা বলেন প্রধান শিক্ষক। মাঝে মধ্যেই কু-প্রস্তাব দেন, তার কথা না শুনলে গালিগালাজ, বদলি, শোকজসহ নানা হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালেও খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়
গুপিড়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই একইভাবে নারী শিক্ষিকাদের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণ করে আসছে
সহকারি শিক্ষিকা শামীমা জাহান বলেন, একটি শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে, তাকে সুস্থ্য করার জন্য সেবা করছিলাম। আর এ কারণে প্রধান শিক্ষক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে মারতে আসে
সহকারি শিক্ষিকা আমিনা খাতুন সনি, ফারজানা ইয়াসমিন ও মর্জিনা খাতুন, সুরাইয়া পারভীন বলেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণটা শিক্ষকসুলভ নয়। গত ১১ বছর ধরে ওনার অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। ডিপিও, টিও এটিও নাকি তার পকেটে। প্রায়ই শোকজের হুমকি দেন। প্রতিটি দিনই স্কুল শুরু হয় চিৎকার-চেচামেচি দিয়ে।
শিক্ষিকাদের চরিত্র নিয়ে সব জায়গায় বাজে মন্তব্য করে। সুযোগ পেলেই গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। আর তার দেওয়া কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নানাভাবে হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করেন এক সহকারি শিক্ষিকা।
এসব অভিযোগের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ’র কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ওপর উত্তেজিত হন এবং কোন ভিডিও বক্তব্যও দিতে রাজি হননি
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহার উদ্দিন সহকারি শিক্ষিকাদের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।



















আপনার মতামত লিখুন :