বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, স্কুল পর্যায়ে ৪৭ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক / ৯১ প্রকাশিত সময়:
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

 

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, স্কুল পর্যায়ে ৪৭ শতাংশ

 

২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%) ও কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%) রয়েছে। তা ছাড়া ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ রয়েছে।

 

আজ শনিবার ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

 

 

এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. আনিস আহমেদ (কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য), ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র), ডা. মারুফ আহমেদ খান (সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ), সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

শিক্ষা স্তরভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%), কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০%) ও মাদরাসায় ৪৪ জন (১০.৭২%) আত্মহত্যা করেছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোরের আবেগীয় অস্থিরতা ও পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।

 

 

নারী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বেশি: মোট আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি।

 

গবেষকরা মনে করছেন, কৈশোরে মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় কারণ।

হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ: কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হতাশা ২৭.৭৯%, অভিমান ২৩.৩২%, একাডেমিক চাপ ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণ ১৩.১৫%, পারিবারিক টানাপোড়েন ৭.৯৪%, মানসিক অস্থিতিশীলতা ৬.২০%, যৌন নির্যাতন ৩.৪৭% এবং সাইবার বুলিং ১ জন নারী শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে অভিমান (৩২.৬১%) এবং একাডেমিক চাপ (২৩.৬৯%) সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০%, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা দেশকে নাড়া দিয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয় সংকট, সামাজিক তুলনা, প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও একাডেমিক চাপ এই বয়সে বড় ভূমিকা রাখছে।

 

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪%). চট্টগ্রামে ৬৩ জন, বরিশালে ৫৭ জন ও রাজশাহীতে ৫০ জন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র: ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ জন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জন, মেডিকেল কলেজ ৬ জন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজে ১০ জন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা ও প্রেমঘটিত কারণ বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরো বেশি।

 

আত্মহত্যারোধে আঁচল ফাউন্ডেশনের ৫ দফা প্রস্তাব: সংকট মোকাবেলায় ফাউন্ডেশন সুপারিশ করেছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মানসিক সংকট শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণ, আত্মহত্যা বিষয়ে সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা, প্রাথমিক শিক্ষকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ ও অভিভাবক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ জোরদার।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‌এই ৪০৩টি মৃত্যু শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং ৪০৩টি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। এখনই কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

 


More News Of This Category