আধুনিক যুগে যেখানে দ্রুতগতির যানবাহন আর পাকা রাস্তা, সেখানে সিরাজগঞ্জের যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আজও আবর্তিত হচ্ছে ঘোড়ার গাড়িকে কেন্দ্র করে।
জেলার কাজিপুর থানার নাটুয়াপাড়া সহ যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের প্রায় ২৫টি ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল, মালামাল পরিবহন সবকিছুতেই ভরসা এই ঘোড়ার গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরের কৃষকরা ভোর থেকে ধান, পাট, সবজি, খড়সহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল ঘোড়ার গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে আসছেন। আবার অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও দূর-দূরান্তে যাতায়াতের জন্য এই ঘোড়ার গাড়িকেই বেছে নেন। চর থেকে সদরে আসা-যাওয়ার প্রধান মাধ্যম এখনো এটিই।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় নদী ভাঙন আর কাঁচা রাস্তার কারণে অটো, ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন চরে ঢুকতে পারে না। তখন একমাত্র ঘোড়ার গাড়িই তাদের বাঁচার অবলম্বন। একটি ঘোড়ার গাড়িতে একসাথে ৮-১০ জন মানুষ এবং প্রায় ১৫-২০ মণ মালামাল অনায়াসে বহন করা যায়।
ঘোড়ার গাড়ির চালক রফিক মিয়া বলেন, “আমরা সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গাড়ি চালাই। চরের ২৫টা ইউনিয়নের মানুষ আমাদের গাড়িতেই বাজার-সদাই করে, হাসপাতালে যায়। গাড়ি না থাকলে এই এলাকার মানুষের চলাই মুশকিল হয়ে যেত।”
এলাকার বাসিন্দা সালমা খাতুন বলেন, “আমাদের এখানে রাস্তা নাই, গাড়ি নাই। ছেলে-মেয়েকে স্কুলে, নিজে হাসপাতালে সব জায়গায় যাই এই ঘোড়ার গাড়িতে করেই। এটাই আমাদের অহংকার।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে এখনো যমুনার চরবাসীকে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী বাহনের উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
তবুও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঘোড়ার গাড়িকে আঁকড়ে ধরে টিকে আছে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :