রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত সংখ্যালঘু শিক্ষকরাই কেন টার্গেট?


রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত সংখ্যালঘু শিক্ষকরাই কেন টার্গেট?
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

রংপুরে ৮ মাসের ব্যবধানে দুই ঘটনায় নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দুজন সংখ্যালঘু শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। হত্যার একটি ঘটনায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও আদালতে জমা পড়েনি চার্জশিট।

 

 

অথচ এর মধ্যেই আবার ঘটেছে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সংখ্যালঘু শিক্ষক পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন—কেন বারবার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাদের পরিবারকে ঘিরে এমন নৃশংসতার ঘটনা ঘটছে? তাহলে নিজ বাড়িতেই কি নিরাপদ নন জীবনের শেষ প্রান্তে থাকা প্রবীণরা?

 

আট মাসেও জমা পড়েনি চার্জশিট

 

প্রায় আট মাস আগে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের (৬০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজমিস্ত্রি মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত দেশি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।

 

 

 

 

তবে এত দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে আটকে আছে বিচারপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।

 

এই দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ নিহতের পরিবার ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

তারাগঞ্জের সেই ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই ঘটে আরেক হত্যাকাণ্ড

 

যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রীর হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যখন অপেক্ষা, তখনই রংপুর নগরীর দাসপাড়া-মাছুয়াপাড়া এলাকায় ঘটে আরেকটি নৃশংস ঘটনা।

 

গত ২২ আগস্ট রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়।

 

একই জেলার দুই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

যদিও দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। তবে পরপর এমন ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।

‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি’

 

রংপুরে সংখ্যালঘু পরিবারে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী আরিফুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, এসব ঘটনা থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় হলো সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষকরাই যদি নিরাপদ না থাকেন’

 

শিক্ষকরা সারা জীবন শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করেন। অথচ জীবনের শেষ সময়ে এসে তাদেরই যদি নিজ বাড়িতে নির্মমতার শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়—সমাজের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করেন শিক্ষকরা।

 

প্রবীণ শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডগুলোর দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তারাগঞ্জ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. তাজমুল ইসলাম তাজু।

 

প্রশ্ন এখন তদন্ত ও বিচারের গতি নিয়ে

 

পরপর ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ বের করতে হবে। কারা পরিকল্পনাকারী, কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে—তা তদন্তে স্পষ্ট করতে হবে।

 

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

 

তাদের প্রত্যাশা, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে রংপুরের প্রবীণ শিক্ষক ও সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা অনেকটাই কাটবে।

 

এখন দেখার বিষয়, তদন্তের গতি কতটা বাড়ে এবং বিচারের মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও দায়ীদের পরিচয় কত দ্রুত সামনে আসে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।