শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

খোকসাবাড়ি আশ্রয় প্রকল্প: মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে, জীবনমান উন্নয়নে চাই আরও উদ্যোগ

_সিরাজগঞ্জ সদর প্রতিনিধি, মোহাম্মদ ইনসাফ আলী_ / ২৯ প্রকাশিত সময়:
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

খোকসাবাড়ি আশ্রয় প্রকল্প: মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে, জীবনমান উন্নয়নে চাই আরও উদ্যোগ

_সিরাজগঞ্জ সদর প্রতিনিধি, মোহাম্মদ ইনসাফ আলী_

 

*সিরাজগঞ্জ:* সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের খোকসাবাড়ি গ্রামে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে ৫০টি ভূমিহীন ও গৃহীন পরিবারের জীবনে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টি-বাদলে আর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয় না তাদের। তবে বিশুদ্ধ পানি, কাঁচা রাস্তা ও কর্মসংস্থানের অভাবে পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি মেলেনি বাসিন্দাদের।

 

### *যেভাবে গড়ে উঠেছে আশ্রয় প্রকল্প*

 

২০২১-২ অর্থবছরে খোকসাবাড়ি মৌজার ২.৫০ একর খাস জমিতে ৫০টি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও সংযুক্ত টয়লেট রয়েছে। নদীভাঙন ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে ২০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এখানে পুনর্বাসন করা হয়।

 

প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। বর্তমানে এখানে ৫০টি পরিবারের প্রায় ২৩০ জন মানুষ বসবাস করছেন।

 

### *সুবিধা: মাথা গোঁজার ঠাঁই বড় স্বস্তি*

 

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ রহিমা বেগম বলেন, “আগে নদীর ধারে ছাপড়া ঘরে থাকতাম। বর্ষা এলেই ভয় লাগতো। এখন পাকা ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাই। ছেলেমেয়েরা নিরাপদে পড়াশোনা করছে।”

 

এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, প্রতিটি ঘরে সোলার প্যানেলও বসানো হয়েছে। রাতে অন্ধকারে থাকতে হয় না। কমিউনিটি সেন্টারও নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে মাঝে মাঝে স্বাস্থ্য ক্যাম্প হয়।

 

### *অসুবিধা: যেখানে এখনো ঘাটতি*

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় পানির জন্য মাত্র ৩টি গভীর নলকূপ রয়েছে। ২০টি পরিবারকে একটি নলকূপ ব্যবহার করতে হয়। গরম ও শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

 

ভিতরের রাস্তা কাঁচা। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। শিশু ও বয়স্কদের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। নিকটতম প্রাথমিক বিদ্যালয় দেড় কিলোমিটার দূরে, যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই।

 

বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, “ঘর পাইছি, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু কাজ নাই। দিনমজুরির জন্য ৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জ শহরে যেতে হয়। যদি এখানেই হাঁস-মুরগি, সেলাই বা ছোটখাটো প্রকল্পের ব্যবস্থা হতো, তাহলে সংসার চালাতে পারতাম।”

 

### *স্থানীয় প্রশাসন কী বলছে*

 

খোকশাবাড়ি ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আশ্রয় প্রকল্পের ঘরগুলো মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা ও নলকূপের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।”

 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, “খোকসাবাড়ি আশ্রয় প্রকল্প আমাদের তদারকিতে আছে। বাসিন্দাদের দাবিগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে রাস্তা, পানি ও জীবিকায়নের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।”

 

### *সরকারের কাছে বাসিন্দাদের দাবি*

 

১. প্রতিটি ব্লকের জন্য পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন।

২. প্রকল্পের ভিতরের রাস্তা পাকা করা।

৩. কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

৪. ক্ষুদ্রঋণ ও সমবায়ের মাধ্যমে হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও কুটিরশিল্পের উদ্যোগ।

৫. নিকটতম স্কুলে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ পথ ও যাতায়াত ব্যবস্থা।

 

### *শেষ কথা*

 

খোকসাবাড়ি আশ্রয় প্রকল্প প্রমাণ করে, সরকার ভূমিহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শুধু ঘর দিলেই হবে না, জীবনমান উন্নয়নের জন্য পানি, রাস্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও জরুরি।

 

বাসিন্দাদের কথা একটাই—“ঘর পেয়েছি, এবার বাঁচার মতো পরিবেশ চাই।” সরকার যদি দ্রুত এই দাবিগুলো বিবেচনা করে, তাহলে খোকসাবাড়ি আশ্রয় প্রকল্প হতে পারে টেকসই পুনর্বাসনের মডেল।


More News Of This Category