জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে মশাল মিছিলের পর রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে তারা প্রক্টর অফিসের দরজায় ‘গেট আউট’ এবং বারান্দার ওপরের সাইনবোর্ডের পাশে ‘ব্যর্থ’, ‘অক্ষম’ লিখন কর্মসূচি চালিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনে অবস্থিত প্রক্টর অফিসের প্রধান ফটকে সাদা রং দিয়ে বড় করে ‘GET OUT’ লেখা হয়েছে। এই ভবনের সামনে এবং বারান্দায় আগে থেকেই প্রক্টর অফিস এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খোদাই করে লেখা ছিল।আজ শিক্ষার্থীরা এই লেখার ঠিক ওপরে বড় বড় অক্ষরে সাদা রং দিয়ে ‘ব্যর্থ’ লিখে দিয়েছেন। এখন দূর থেকেই বড় অক্ষরে ‘ব্যর্থ প্রক্টর অফিস’ লেখাটি দৃশ্যমান হচ্ছে।
দর্শন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ জেনিস বলেন, ‘আমরা জানি যে এই প্রক্টর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রক্টর অফিসে হাজারো নিপীড়নের ঘটনার অভিযোগ জমা পড়ছে, কিন্তু কোনো অভিযোগই আসলে বিচার সম্পন্ন হয়নি এবং সম্পূর্ণভাবে এই প্রক্টরের অফিস আসলে ব্যর্থ। কারণ এই প্রক্টর যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, এর পরেই দুইটা লাশ পড়ছে ক্যাম্পাসে।
এ ছাড়া অনেকগুলো নিপীড়নের অভিযোগ এসেছে, কিন্তু একটারও সমাধান হয়নি, একটারও বিচার উনি করতে পারেননি।’ এর প্রতিবাদস্বরূপ আমরা এই দেয়াল লিখন কর্মসূচি চালাই।
ইতিহাস বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘আমরা গত কয়েক মাস ধরে ক্যাম্পাসে একের পর এক অঘটন, এমনকি ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা দেখেছি। কিন্তু প্রক্টর সাহেব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। গতকালকের ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পরও তিনি দায়িত্ব এড়ানোর মতো বক্তব্য দিয়েছেন।আমরা তাই মনে করি এই প্রক্টরের আর এই পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৩ মে) রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক যুবক কর্তৃক ৫১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাত ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর একটি মশাল মিছিল বের হয়ে তা প্রক্টর অফিসের সামনে জমায়েত হয়। পরবর্তীতে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ঘেরাও করে। সেখানে বিভিন্ন স্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি চালায় তারা।
এরপর শিক্ষার্থীরা রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আলোচনার পর রাত ৪টায় সেখানে তারা প্রশাসনকে ছয়টি দাবি এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করে।