ফরিদপুরের সালথায় বাগান থেকে লিচু চুরি করার সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আজিজুল মোল্যা (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিজুল মোল্যা ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মানো মোল্যার ছেলে।
এদিকে আজিজুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলাকারীরাসহ তাদের সমর্থকদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার বিকালে ফুলবাড়িয়া গ্রামে আজিজুলের বাগান থেকে গোপনে লিচু পাড়ছিল পার্শ্ববতী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে সাকিল মুন্সি ও তুষার মুন্সি। এসময় লিচু পাড়ায় বাধা দেয় বাগান মালিক আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা। এতে ক্ষুব্দ হয়ে আকরামকে মারধর করে সাকিল ও তুষার।
ঘটনার পর সন্ধ্যায় আজিজুল স্থানীয় ফুলবাড়িয়া বাজারে গিয়ে সাকিল ও তুষারের কাছে তার ছেলে আকরামকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে আজিজুলের ওপর হামলা চালায় তুষার ও সাকিল। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে আজিজুলকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে আজিজুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানান, লিচু পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। দ্রুতই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পর ফুলবাড়িয়া এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে সালথা থানা পুলিশ অবস্থান করছে। এ ছাড়াও ফরিদপুর থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে।