২০৩২ সালের মধ্যে ভারত-আমিরাত বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যThe City Bank powerful banking App City Touch
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০১.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমিরাতে ভারতের রপ্তানি ৩৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে দেশটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে এবং সার্বিকভাবে তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং ভারত দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্থান পেয়েছে। উভয় দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে।
দুবাইয়ে ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম আয়োজিত ‘ইনোভেশনস অ্যান্ড ইনভেস্টরস সিরিজ’ শীর্ষক এক সম্মেলনে দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত ভারতীয় কনসাল জেনারেল ড. বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি বলেন, যেহেতু ভারত-আমিরাত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, তাই আগামী কয়েক বছরে এটিকে দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জন্য আমাদের এখন সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করা শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরবর্তী ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবৃদ্ধি আসবে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে।
ভারতে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৩০টিরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাবে পরিণত করেছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টি হলো ফান্ডপ্রাপ্ত কম্পানি, যারা সম্মিলিতভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি থেকে ৬৮৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। দেশটিতে ৯৩টি ইউনিকর্ন রয়েছে। মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন বিনিয়োগকারী ৫৩ হাজার ৫২১টি ফান্ডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৩১৩৬টি স্টার্টআপ আর্লি-স্টেজের ফান্ডিং এবং ৯১৮টি লেট-স্টেজের ফান্ডিং পেয়েছে।
গত পাঁচ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬২৪টি নতুন কম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর জন্য ১৩.৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতে স্টার্টআপগুলোর মধ্যে ৫ হাজার ৩৪৭টি অধিগ্রহণ এবং ৬ হাজার ৫৩১টি আইপিও হয়েছে। অন্যদিকে ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪টি স্টার্টআপ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া নারীরা ২৩ হাজার ৭১৯টি কম্পানি প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভারত স্টার্টআপ নলেজ অ্যাক্সেস রেজিস্ট্রি (ভাস্কর) প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
স্টার্টআপগুলো সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম)-এর মাধ্যমে ৫১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্ডার পেয়েছে।
ড. রেড্ডি জোর দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে, স্টার্ট-আপে বিনিয়োগসহ নতুন অংশীদারি তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ ভারত স্টার্ট-আপ এবং ফিন-টেক সংস্থাগুলোর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যাদের ব্যবসাকে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিনিয়োগকারীরা এই অংশীদারিকে সুদৃঢ় করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের স্তরে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারেন।
সম্মেলনে বলিউড অভিনেতা ও বিনিয়োগকারী বিবেক ওবেরয় বলেছেন, সবাই যেমন সাফল্য উদযাপন করে, তেমনি ব্যর্থতা উদযাপন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা সাফল্য অনেক উদযাপন করি। কিন্তু আমাদের ব্যর্থতাও উদযাপন করা উচিত, কারণ ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষাই আমাদের সাফল্য এনে দেয়। আমার জীবনেও ব্যর্থতার ভাগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি ৩৫টি কম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি, যার মধ্যে কয়েকটি তেমন ভালো ফল করেনি। কিন্তু যেগুলো ভালো করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলোতে বিনিয়োগ করে বিপুল সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে এবং সেগুলোকে বৃহৎ বৈশ্বিক ব্যবসায় পরিণত হতে সাহায্য করতে পারে।
ইন্ডিয়ান পিপলস ফোরাম (আইপিএফ) হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো আমিরাতে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়পরায়ণ ও সমৃদ্ধ ভারতীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলা। এটি ভারতীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের আয়োজন করে।
আইপিএফ-এর জাতীয় সভাপতি জিতেন্দ্র বৈদ্য বলেন, ভারত-আমিরাত সম্পর্ক এমন একটি কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ উভয় দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য এই বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে। আমরা এখানে আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে এসেছি, যাতে আমরা উভয় দেশের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সম্পর্কের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।
২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতজুড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ইক্যুইটি ফান্ডিং রাউন্ডে ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে (অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) ভারতে ২ লাখ ৭২ হাজার রাউন্ডে ১৭.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। সুতরাং, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ভারতের কম্পানিগুলোতে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ ৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইপিএফ বিজনেস অ্যান্ড প্রফেশনাল কাউন্সিলের সহ-আহ্বায়ক এবং স্টকিফাই-এর প্রতিষ্ঠাতা পীযূষ ঝুনঝুনওয়ালা বলেছেন, ভারতীয় ব্যবসায়ী, ব্যবসায়িক নেতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্টার্ট-আপ, ফিন-টেক, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্স দ্বারা চালিত সংস্থাগুলোতে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে। বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সম্পদই বৃদ্ধি করতে পারবেন না, বরং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। সেইসঙ্গে স্টার্ট-আপগুলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও বিশ্বব্যাপী ইউনিকর্ন হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র : খালিজ টাইমস
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।


















আপনার মতামত লিখুন :