শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মবসন্ত্রাসে গণ-আতঙ্ক বাড়ছে বলে মনে করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, শিশু রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাসের যে গণ-আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই তা বরদাশত করার সুযোগ নেই।
সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের হেফাজত করা। সরকার এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে ভালো উদ্যোগও আখেরে মানুষ মূল্যায়ন করবে না।
শুক্রবার (২২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের উদ্যোগে ‘বিএনপি সরকারের তিন মাস : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সাইফুল হক আরো বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার দিক থেকে সরকার এই তিন মাসে কিছু স্কোর জমা করলেও রাজনৈতিক দিক থেকে সরকার নিজেদের পুঁজি খরচ করে ফেলছে; গণভোটসহ সংস্কারের প্রশ্নে নিজেদের অর্জনকে বিরোধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।সভায় দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, মানুষের মূল্যবোধ যেভাবে পচে যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে আত্মশক্তির উদ্বোধন ঘটিয়ে সামাজিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। গণতন্ত্রের অর্জন ধরে রাখতে পরমত সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সরকারকে জনগণের ভাষা বুঝতে হবে, দেয়ালের লেখা পড়তে হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী গোটা সংস্কার উদ্যোগে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সংস্কার করা হয়নি।সে কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারছে না। জাতীয় বাজেটে করের আওতা বৃদ্ধি এবং সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর ধার্যের আহ্বান জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূরের সভাপতিত্ব ও সদস্যসচিব বাবর চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আমিরুল মোমেনিন মানিক, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান খান, ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, মাসুদুর রহমান মল্লিকসহ অনেকেই।