শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনষ্ঠিত হয়।
এস ময় ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃত্ববৃন্দ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ৫ দফা স্মারকলিপি পেশ করেন।
প্রতিনিধিদলের নেতারা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু, মাদ্রাসা সিলেবাসে অসংগতি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট, শিক্ষক-ব্যাংকারদের চাকরিতে পুনঃনিয়োগ, এবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়গুলো শিক্ষামন্ত্রী মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং বিবেচনার আশ্বাস দেন।
ইসলামী ফ্রন্টের প্রতিনিধিদলের অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. অধ্যক্ষ এ কে এম মাহবুবুর রহমান, ড. অধ্যক্ষ ঈসমাইল নোমানী ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী, আইন সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান, দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, সদস্য নাসির উদ্দিন।
৫ দফা দাবিগুলো হলো :
১ রাসূলে পাকের পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের একটা পরিচ্ছদ ছিল পাঠ্য বইতে। কিন্তু জামায়াতগোষ্ঠী এই পরিচ্ছদটি বাদ দিয়েছে! অথচ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরীফ জিয়ারত করা ইসলামের শুরু থেকেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহর নিকট একটি শ্রদ্ধা ও বরকতময় আমল।
২. তিন রাকাত বিতরের নামাজ কোরআন-সুন্নাহ সমর্থিত একটি ইবাদত। কিন্তু এই দুষ্টচক্র বিতরের নামাজ সম্পর্কে লিখেছে, ‘বিতরের নামাজ ৫ রাকাত কিংবা ৭ রাকাত কিংবা ৯ রাকাত হতে পারে’! এটা যা শুধু শিক্ষার্থীদেরকেই নয়, বরং পুরো মুসলিম সমাজকেই চরম বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেবে!৩. এদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা হয়েছে হযরত শাহ্জালাল (রহ.) সহ আউলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে।
যে কারণে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান পীর-আউলিয়াদের শ্রদ্ধা করে, তরিকত-তাসাওফ চর্চা করে এবং মাযহাব অনুসরণ করে। এই বাতিল গোষ্ঠী মাজার জিয়ারতসহ তরিকত-তাসাওফ সম্পর্কিত মোট ১০ টি পরিচ্ছদ একসঙ্গে পাঠ্যবই থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
এরকম আরো বহু ঘৃণ্য সংযোজন-বিয়োজন করার মাধ্যমে ধর্মীয় অঙ্গনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার যাবতীয় আয়োজন করা হয়েছে। আরো পরিতাপের বিষয় যে, দেশের বরেণ্য আলেমগণ আকাইদ-ফিকহ বইয়ের সম্পাদনা করেছিলেন এসব সংযোজন-বিয়োজন করে বইয়ের সম্পাদক ও মূল লেখকদের নাম বাদ দিয়ে অন্য লেখকদের নাম ছাপিয়ে ২০২৬ সালের আকাইদ-ফিকহ বই ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে।
জামায়াত/ওহাবীদের এই বিকৃতির মূল উদ্দেশ্য হলো, লাখ লাখ শিক্ষার্থীদেরকে ‘মোটিভেট’ করে পরবর্তী পাঁচ বছর পর সব শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়লাভ করার মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।
৪. মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে যেসব অধ্যক্ষ, শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদেরকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
৫. সরকারের ভেতরে থাকা একটি মহল অন্যায়ভাবে আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে ওহাবী (কওমি) সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক নিয়োগদানের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। হাজার-হাজার আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবে মেনে নেবে না। এই ষড়যন্ত্র খেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে তারা ৫ দফা দাবিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।