সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

শতবর্ষী ঐতিহ্যে চুনারুঘাটের ‘বান্নি’ মেলা, কৃষিপণ্যে সমাহার

অনলাইন ডেক্স / ৪৪ প্রকাশিত সময়:
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পীরের বাজারে শুরু হয়েছে বৃহৎ বৈশাখী মেলা, স্থানীয়ভাবে যা ‘বান্নি’ নামে পরিচিত। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলাটি চুনারুঘাটসহ সিলেট বিভাগের অন্যতম বৃহৎ বৈশাখী মেলা হিসেবে পরিচিত।

পহেলা বৈশাখের পরদিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলার প্রধান আকর্ষণ কৃষিপণ্যের বিশাল সমাহার। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে লাঙল, জোয়াল, দা, কাঁচি, মই, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ নানান কৃষি উপকরণ।পাশাপাশি মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, হস্তশিল্প ও মনিহারি পণ্যেরও চোখ ধাঁধানো উপস্থিতি রয়েছে।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। হবিগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকেও ব্যবসায়ীরা এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় এসেছেন।

চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু জানান, এই মেলা মূলত কৃষকদের জন্য।

এখান থেকেই তারা প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য সংগ্রহ করতেন। 

তবে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের কারণে কৃষিকাজে ব্যবহৃত অনেক ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামের চাহিদা কমে যাওয়ায় মেলার জৌলুস কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আশপাশে বসতি গড়ে ওঠায় মেলার পরিসরও আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মেলায় অংশ নিতে আসছেন।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ওসি নুর আলম।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, প্রায় একশ বছর আগে ছোট পরিসরে পূজা আয়োজনের মাধ্যমে এই মেলার সূচনা হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃহৎ মেলায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে এই মেলা শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখনও অনেকেই শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে এই মেলায় ভিড় জমান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পাশাপাশি মেলায় আয়োজন করা হচ্ছে গ্রামীণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


More News Of This Category