নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা পরিবারকে সহায়তায় নেপালের তরুণরা

অনলাইন ড্রেস
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা পরিবারকে সহায়তায় নেপালের তরুণরা
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছে অনেক পরিবার। কেউ স্বজনের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছে, আবার কেউ অপেক্ষা করছে একটি ফোনকলের জন্য।

 

 

এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন নেপালের নুয়াকোট জেলার বিদুর শহরের একদল তরুণ।

‘ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিদুরে একটি ছোট সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছেন। বন্যার কারণে যাদের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে কিংবা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে, তারা এই কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন। কেন্দ্রে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে তথ্য খোঁজার সময় পরিবারগুলো যাতে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্যও ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ১০টি বাটন ফোন ও প্রয়োজনীয় ব্যাটারির ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি সৌর ব্যাটারির মাধ্যমে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ না থাকলেও মানুষের যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

 

এই উদ্যোগে যুক্ত তরুণদের মধ্যে রয়েছেন কাঠমাণ্ডুর ২৭ বছর বয়সী রোশন ও ২৪ বছর বয়সী শুগাম। স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে বিদুরে আসা বেশ কয়েকজন পরিবারকে এরই মধ্যে তারা সহায়তা করেছেন। নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন সিজি কর্প গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. বরুণ চৌধুরী। বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, বন্যায় মৃত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

 

 

 

 

তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডেশন ও ব্যাংক নেপালে ত্রাণ কার্যক্রম এবং অস্থায়ী বাড়ি ও স্কুল নির্মাণে সহায়তার জন্য ১৫ কোটি রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

 

দুর্যোগের সময় নেপালকে ভারতের সহায়তারও প্রশংসা করেন বরুণ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত বরাবরের মতো এবারও দ্রুত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, এর আগে ভূমিকম্প ও করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও ভারত নেপালের পাশে ছিল। এবারও ভারত ত্রাণ নিয়ে দ্রুত সাড়া দিয়েছে। বরুণ চৌধুরীর ভাষ্য, প্রায় ৭০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চারটি বিমান নেপালে এসেছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গ ও উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞদের একটি দলও সেখানে কাজ শুরু করেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করছেন। নেপালের এই দুর্যোগে ভারতের সহায়তাকে দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন তিনি।

 

 

 

 

গত সপ্তাহে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির পর মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বন্যায় নিহত এবং যেসব মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি, সেগুলো আইন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার শুধু এমন মরদেহগুলোর ব্যবস্থাপনা করছে, যেগুলো এমন অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে যে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

তবে পরে পরিচয় শনাক্ত করতে কাজে লাগতে পারে—এমন ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং নেপাল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় মরদেহগুলো ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। যেসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।