কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এক নারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে এক যুবককে মারধরকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতীমারা ও নাঙ্গলকোট উপজেলার পুজকরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজারে পুজকরা গ্রামের রিকশাচালক জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫) হাতীমারা গ্রামের এক নারীকে উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী জাহাঙ্গীরকে মারধর করেন।
এর জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাতীমারা ও পুজকরা গ্রামের লোকজন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ, শামীম, রাজু ও খলিল এবং পুজকরা গ্রামের রাকীবসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেল, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ বলেন, ‘দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ও সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
পরে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেল, সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর পুলিশ এবং কুমিল্লা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।















আপনার মতামত লিখুন :