সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

দুদকের মামলায় শামসুল-মায়া দম্পতির সাজা বহাল

অনলাইন ডেক্স / ৩৮ প্রকাশিত সময়:
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক দম্পতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আত্মসমর্পণের পর বিচারিক আদেশে তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সমর কুমার ঝাঁ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার সাবেক অফিস সহকারী (বর্তমানে বরখাস্তকৃত) মো. শামসুল ইসলাম (৫৫) ও তার স্ত্রী মোছা. মায়া ইসলাম (৪৫)। পরে বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রংপুরের তাজহাট থানায় শামসুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুদক আইনে ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পৃথক দুটি ধারায় তাদের এক বছর ও ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি একই ঘটনায় আরও একটি ধারায় উভয়কে ৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকলেও পরে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।আইনজীবীদের মতে, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধে এ ধরনের শাস্তি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি চাকরিতে থেকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ধরনের কঠোর শাস্তি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান করলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আদালতের এ রায় সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মামলার বাদী এবং দুদকের সমন্বিত রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সমর কুমার ঝাঁ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’


More News Of This Category