ঢাকা জেলা পরিষদের সম্পত্তিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে শীঘ্রই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জে জেলা পরিষদের নতুন ও পুরাতন মার্কেট পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, ‘নবাবগঞ্জে জেলা পরিষদের নতুন মার্কেটে বৈধভাবে কোনো ব্যবসায়ী দোকান বরাদ্দ নেননি। বরাদ্দের অর্থ জমা দেননি, এমনকি অনেকেই ভাড়াও পরিশোধ করছেন না।এ ছাড়া কেউ কেউ নকশাবহির্ভূতভাবে সিঁড়ি দখল করে নিজস্বভাবে দোকান নির্মাণ করেছেন। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এতে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ লাভবান হলেও সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বিপুল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে সরকারকে এভাবে চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করে বিধিমোতাবেক যারা দোকান বরাদ্দ পাবেন, তারাই কেবল ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রশাসক অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে জেলা পরিষদের সম্পদ দখল ও অপব্যবহার করা হয়েছে। এসব অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জনগণের সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাইসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে একই ধরনের অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, জেলা পরিষদের সম্পদ অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তা রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে একদিকে যেমন সম্পদ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসিফ রহমানসহ জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং দোহার-নবাবগঞ্জের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।