গাজীপুরের কালীগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে কোরবানি পশুর ২৩টি হাট। একই সঙ্গে ছোট বড় খামারেও ভিড় বাড়ছে।
ভেজাল থেকে মুক্ত রাখতে পশুকে দ্রুত মোটাতাজা করণের ওষুধ স্টেরয়েড ব্যবহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে প্রাণী সম্পদ বিভাগ।
সোমবার (২৫ মে) কালীগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে এ তথ্য জানা যায়।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় মিলে ৩৫০টি পশুর খামার আছে। এর মধ্যে বড় খামার ৩০টি।
সর্বোচ্চ গরু হাউজ অফ মু নামক খামারে। এখানে ২৫০টি গরু আছে।
সূত্র জানায়, কালীগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা আছে ১৪ হাজার ৬৮৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৮৭টি পশু প্রস্তুত করা আছে।চাহিদার তুলনায় কম আছে ৯৮৫টি পশু। অবশ্য কম থাকা পশুর চাহিদা আশপাশ এলাকা থেকে পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কালীগঞ্জ প্রাণী সম্পদ অফিস। এবছর কালীগঞ্জে পশুর হাট বসছে ২৪টি। সবচেয়ে বড় পশুর হাট চুপাইর হাট। ইতিমধ্যে পশুর হাটের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষের পথে।
জানা গেছে, পশুর স্টেরয়েড হলো এক ধরনের কৃত্রিম হরমোন বা ওষুধ (যেমন: ডেক্সামেথাসন), যা কিছু অসাধু খামারি পশুকে দ্রুত মোটাতাজা করতে ব্যবহার করে। এটি পশুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমিয়ে দ্রুত ওজন বাড়ায়, যা পশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির। তাই এই ক্ষতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রাণী সম্পদ বিভাগ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করেছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ অংশ রাজধানী ঢাকার পূর্বাচলের একাংশ। পূর্বাচল ঘেঁষা রায়েরদিয়া বাজার সংলগ্ন ‘হাউজ অফ মু’ নামক খামার। এই খামারে দুই শতাধিক গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে শতাধিক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। খামারের সবচেয়ে বড় গরুর নাম নবাব। এই নবাব বিক্রি হবে ৯ লাখ টাকায়।
খামারের ম্যানেজার আনোয়ার কামাল ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের খামারে দুই শতাধিক গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভুট্টি, দেশীয় পাহাড়ি গয়াল, দেশি ষাড়, শাহীওয়াল ষাড়, ব্রাহমা ক্রস ষাড় বকনা এবং দেশি জাতের ছাগল। ইতোমধ্যে ১০০ গরু বিক্রি হয়েছে। বাকীগুলো বিক্রি হবে। পশু কিনতে প্রতিদিন ক্রেতারা ভিড় করছেন।ম্যানেজার বলেন, আমাদের খামারের সবচেয়ে বড় গরুর নাম নবাব। ব্রাহামা ক্রস জাতের ৭৭০ কেজি ওজনের এই নবাবের দাম ৯ লাখ চাচ্ছি আমরা।
খামারে ঢাকার বনানী থেকে গরু কিনতে এসেছেন মোহনা নামে একজন ভদ্রমহিলা। তিনি জানালেন, গরু কিনতে আসছি। ১ লাখ ২০ হাজারের মতো কয়েকটি গরু কিনব।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, চাহিদার কাছাকাছি কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত আছে। আমাদের পশুর সংকট নেই। পশু মোটাতাজা করণে স্টেরয়ল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে খামার পরিদর্শন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে
।