টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ২৭ কোটি টাকায় নির্মীয়মান হরিমন বাঁধের সম্পন্ন অংশ হুমকি মুখে পড়েছে। বাঁধটি যে কোনো সময় ধসে পড়ে খরচার হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খরচার হাওরে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর চাষাবাদ হয়েছে চার হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাধানগর গ্রামের পাশে বাঁধটি দিয়ে পানি ঢোকে খরচার হাওরে। খবর পেয়ে ওইদিন দুপুরে বাঁধটি পরিদর্শন করেন সিলেট পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, বিএনপি নেতা আশিকুর রহমান প্রমুখ। তারা সেখানে শ্রমিক দিয়ে গর্তগুলো বন্ধ করে দেন। এ সময় ভাঙন ঠেকাতে সেখানে মাটির ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
তবে ওই স্থানে যেকোনো মুহূর্তে ফের বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বাঁধটিতে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাঁধটি নির্মাণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সময়মতো বাঁধে মাটি ফেলা হয়নি। পানি আসার আগে মাটির কাজ করা হলেও দুরমুজ না করেই জিওটেকস্টাইল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
ফলে বাঁধটি ভীষণ দুর্বল। বাঁধটি উচু করা হয়নি। তারা জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে খরচার হাওরে হাজার হাজার কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পাহাড়ি ঢলে উপজেলার রুপাসা নদী দিয়ে হাওরে পানি ঢোকে। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, জরুরি সহায়তা প্রকল্প থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর ও আঙ্গারুলি হাওরে ১.৭ কিলোমিটার বাঁধ ও দুইটি ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ করছে যার ব্যয় ২৭ কোটি
৩৮ লাখ টাকা।চলতি বছরের জুন মাসে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশল মো. কিবরিয়া বলেন, বাঁধটিতে যেসব গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে হাওরে ফের পানি ঢুকতে না পারে, সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিলেট পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, বাঁধের কয়েকটি ছিদ্র দিয়ে পানি ঢোকার খবর পেয়ে আমি নিজেই এসেছিলাম। বাঁধের ভেতর দিয়ে কীভাবে পানি ঢোকে, তা খুঁজে বের করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন খান বলেন, বাঁধটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধ দিয়ে পানি খরচার হাওরে প্রবেশ করলে হাওরের কৃষকের কষ্টের শেষ থাকবে না। তবে বাঁধটি অনিরাপদ রয়েছে। স্থায়ী বাঁধটি সঠিকভাবে এবং দ্রুত করার জন্য আমি চিঠি ও দিয়েছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃক্ষকে। হাওরের ফসল সম্পূর্ণ কাটা শেষ না হওয়া ও বাঁধটির কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নজরদারি ও দায়িত্ব বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পাউবো প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধটির ব্লকের ফাঁকা দিয়ে পানি খরচার হাওরে ঢুকেছিল। আমরা এসে দ্রুত বন্ধ করেছি। এছাড়া বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বাঁধের কাজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ঠিকাদারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একেইসঙ্গে দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
।