জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়া এবং ন্যায্য জ্বালানিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থা হতে হবে জনগণকেন্দ্রিক ও গণতান্ত্রিক।’
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে বাগেরহাটের মোংলার নারিকেলতলায় মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।
আগামী ২৮ থেকে ২৯ এপ্রিল কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে লক্ষ্য করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে ‘যুদ্ধ থামাও, পৃথিবী বাঁচাও’ শীর্ষক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এবং ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ।
ধরার কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার-এর সমন্বয়ক মো. নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন নারীনেত্রী ও নারী উদ্যোক্তা উম্মে রাফিয়া জাহান মিশু, ধরার নেতা ছবি হাজরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র অ্যাডলিনা পায়েল, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র মেহেদী হাসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে তা ন্যায্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ঘটাতে হবে।জ্বালানি নিরাপত্তা ও জ্বালানি সার্বভৌম প্রতিষ্ঠায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর। বাণিজ্য নয়, বাস্তব সমাধান করতে হবে।
জীবাশ্ম জ্বালানিকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে খাদ্যের দাম বাড়ছে, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শ্রমিকদের আয় কমে যাচ্ছে। মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বক্তারা আরো বলেন কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ধ্বংস করছে। রামপালে সরকারের ৪৪২ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, কেবলমাত্র পরিবেশ নয়; অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও মানুষের জীবন রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে ন্যায্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর ঘটাতে হবে।