২০২৩ সালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয় সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একই বছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হন ওই কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার। অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরই এই অধ্যক্ষকেই জোর করে পদত্যাগ করানো হয়।
অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালের ১৮ আগস্ট আমার যোগদানের মাত্র তিন বছরের মধ্যে জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পায়।এ জন্য আমাকে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। ক্লাসরুমে কড়াকড়ির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে নিরুৎসাহ করেছি। নিম্নমানের পাঠ্যবই বাদ দিয়েছি। বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানের নামে অযাচিত বিল ও সম্মানি নেওয়া বাদ দিয়েছি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল টিটো হোসেন, ইসরাফিল আহমেদ, নাজমুল হাসান, মৃদুল, জান্নাতি আক্তার, পারমিতা প্রমুখ। জানতে চাইলে টিটো কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মবের কারণে আমার জীবনটাই পিছিয়ে গেছে। আমি আর এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।মৃদুল নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামানো হয়েছে। কমিটি ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে আমাদের উসকানি দেন। এখন বুঝতে পারছি আমরা ভুল করেছি।’
একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকদের উসকানিতে আমরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে ভুল বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করায় আমাকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি ওই স্যারেরা।’
প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সেলিম জানিয়েছেন, কিছু কতিপয় স্বার্থান্বেষী শিক্ষক ও বহিরাগতরা অবৈধ স্বার্থ আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে মবের সৃষ্টি করে। শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়।পদত্যাগ করানো শিক্ষককে যোগদানে বাধা দিলে তারও বেতন বন্ধ করা হবে—মাউশির এমন নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুললে বর্তমান অধ্যক্ষ বলেন, ‘এখন যেহেতু কমিটি নেই, তাই মাউশি অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি আগের অধ্যক্ষকে যোগদান করতে বলেন, তাতে আমরা বাধা দিতে পারি না।’