মহম্মদপুরের ৫ মৌজার লাখো মানুষের দীর্ঘশ্বাস: ডিজিটাল ভূমি সেবায় ‘মৌখিক’ তালা কেন?
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া, রুইজানী, মুরাইল (পশ্চিম খণ্ড), ধুপুড়িয়া ও পশ্চিম চরবর্ণি—এই পাঁচটি মৌজার কয়েক লাখ মানুষের জীবন আজ থমকে গেছে। গত দেড় বছর ধরে জেলা প্রশাসকের ‘মৌখিক’ নির্দেশে এসব মৌজায় নামজারি ও খাজনা আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে।
এক জায়গায় বলা হচ্ছে রেকর্ডে ‘প্রিন্টিং ভুল’, অন্য টেবিলে বলা হচ্ছে ‘নদী ও চরের আইনি জটিলতা’। প্রশাসনের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ আইনের ভাষ্যমতে, আদালতের সুনির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ ছাড়া কেবল মৌখিক নির্দেশে নাগরিক সেবা বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।
নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও আজ মহম্মদপুরের মানুষ ভূমিহীনদের মতো অসহায়।
অসুস্থ ইদ্রিস মুসল্লী জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করতে পারছেন না।
কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না, কেউ বা জরুরি ঋণের আবেদন করতে পারছেন না।
একের পর এক এসিল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে যাওয়া এই স্থবিরতাকে যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামান্য ‘প্রিন্টিং ভুল’ বা ‘জরিপ’ এর দোহাই দিয়ে কতদিন সাধারণ মানুষকে জিম্মি রাখা হবে? ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল কি তবে মহম্মদপুরের এই ৫টি মৌজার মানুষের জন্য নয়?
আমরা প্রশাসনের এই উদাসীনতার অবসান চাই। জনস্বার্থে দ্রুত এই ‘মৌখিক’ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ভূমি সেবা উন্মুক্ত করার জন্য মাগুরা জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করছি।