নৃগোষ্ঠীর আগে ক্ষুদ্র শব্দটি অত্যন্ত অপমানজনক : সংস্কৃতিমন্ত্রী

অনলাইন ড্রেস
নৃগোষ্ঠীর আগে ক্ষুদ্র শব্দটি অত্যন্ত অপমানজনক : সংস্কৃতিমন্ত্রী
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

নৃগোষ্ঠীর আগে ক্ষুদ্র শব্দটি অত্যন্ত অপমানজনক : সংস্কৃতিমন্ত্রী

 

পাহাড় বা সমতলে বসবাসরত কোনো নৃগোষ্ঠীর নামের আগে ক্ষুদ্র শব্দটির ব্যবহার ‘অত্যন্ত অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, আগে বলা হতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।

 

 

এই ‘ক্ষুদ্র’ শব্দটি অত্যন্ত অপমানজনক। ক্ষুদ্র আর বৃহৎ বলে কিছু নেই।

আন্তর্জাতিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘কমিউনিটি-বেজড সেফগার্ডিং স্ট্র্যাটেজিস ফর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, একইভাবে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ ধারণাও আপেক্ষিক, কারণ ইতিহাসজুড়ে জনমিতির রূপান্তর ও স্থানান্তর ঘটে এসেছে।

 

 

তাই কাউকে খাটো না করে স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের অনুসন্ধান জরুরি। সবাই মিলে আমরা একটা জাতি। আমরা বাংলাদেশি।

 

 

তাই তাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী না বলে তাদের নৃতাত্তিক জাতিসত্তা বলা ভালো।

6

 

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের অফিস প্রধান ও প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ এবং আন্তর্জাতিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস।

 

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা, নথিবদ্ধকরণ এবং প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

তারা বলেন, ঐতিহ্যের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ‘ইমপ্লিমেন্টিং কমিউনিটি-বেইজড হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালস ইন এইট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিভিশনস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের আটটি অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেমিনারের শুরুতে প্রকল্পের আওতাভুক্ত আটটি জনগোষ্ঠীভিত্তিক ঐতিহ্য উত্সবের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ছিল হাজং ও মণিপুরী সম্প্রদায়ের নান্দনিক নৃত্য। দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট আসমা ফেরদৌসী এবং প্রকল্পের অংশীদার আটটি এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

 

অধিবেশনে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সাইদুর রহমান এবং লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক রিফাত মুনিমও বক্তব্য দেন। ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ, ঐতিহ্যচর্চাকারী প্রতিনিধি, জাদুঘরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সেমিনার।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।