পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রোজিনা খাতুন (৫৫) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চলছে। মৃত ওই নারীর ভাই দেলোয়ার হোসেন রোজিনার মৃত্যুতে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন।
অপরদিকে রোজিনার স্বামীর পরিবারের লোকজন রোজিনার আপন ভাই দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার কারণে রোজিনা আত্মহত্যা করেছেন বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। উভয়পক্ষ এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্বামীর ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম জানান, রোজিনা খাতুন তার চাচা মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। প্রায় ৩২ বছর আগে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
তাদের একমাত্র মেয়ে শাম্মী আক্তার বৃষ্টি বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে বগুড়ায় বসবাস করেন। চলতি বছরের ২ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম মারা যান। তার দাবি, মৃত্যুর আগে রফিকুল ইসলাম নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দেন।
রাশিদুল ইসলাম বক্তব্যে আরো বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর রোজিনা খাতুন নিজ বাড়িতে অনেকটা একাকী জীবনযাপন করতেন।
গত ১৭ অক্টোবর রাতে ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়ায় নিজ বসতঘরে তাকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনার আগের দিন থেকে তিনি ও তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে এসে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেন বলে জানান। অথচ এই ঘটনায় তাকে প্রধান অভিযুক্ত করেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এরপর মরদেহ থানায় নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, দাফন শেষে বাড়িতে ফেরার পর রোজিনা খাতুনের ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের দায়ী করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম আরো দাবি করেন, সাবেক নৌবাহিনীর সদস্য মৃত রফিকুল ইসলামের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার তার স্ত্রীর ভাইদের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন আগে রোজিনা খাতুন ওই অর্থ ও স্বর্ণালংকার আনতে গেলেও তাকে সেগুলো না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার ধারণা, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব এবং ভাইদের সঙ্গে বিরোধের কারণে রোজিনা খাতুন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনার ভাই প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), মো. হেলাল হোসেন ও মো. সোহেল রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যথাযথ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান রাশিদুল।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর রোজিনার ভাই দেলোয়ার হোসেন ভাঙ্গুরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নিহতের ঝুলন্ত ছবি, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নে এটি স্পষ্ট হত্যা বলে প্রতীয়মান হয়। এতে তিনি রোজিনার স্বামীর ভাতিজা রাশিদুল ইসলামসহ সাতজনকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত করেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট মোতাবেক পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :