গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক শিশুকে (১২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গর্ভবতী হয়ে গেলে তাকে জোরপূর্বক ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ইতিমধ্যে মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এই তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম।
পলাতক আসামি হলেন মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত প্রায় ৫ মাস আগে প্রতিবেশী আহাদ নামের এক যুবক শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শামীম, নজরুল ও শফিকুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রধান অভিযুক্ত আহাদ গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ওষুধ সেবন করান। গত ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। আসামি আহাদ, শামীম ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

















আপনার মতামত লিখুন :