কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৭) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৯ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি এবং পাশের রাজাপুর শালবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহজালালসহ অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, বৈদ্যুতিক তার, ছুরি ও লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে খলিলের বাড়ির উঠানে যান। এ সময় তারা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখান।
খলিল বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা খলিলকে তুলে নিয়ে রাজাপুর শালবাগানের একটি নির্জন স্থানে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার কোমারডোগা এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে শাহজালাল (৪০), দক্ষিণ লালবাগ বাজারের রাজেশপুর এলাকার জন্তুর আলীর ছেলে রিপন, আব্দুল হালিমের ছেলে জিতু, চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মফিজুর রহমান, কৃষ্ণপুরের চকলক্ষীপুর এলাকার অহিদ মিয়ার ছেলে দুলাল (৩৫) এবং দক্ষিণ লালবাগ বাজারের রাজেশপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে শাকিল (২৮)।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘শাহজালালসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর তাদের মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিরোধ আরো বেড়ে যায়। এর জেরে তারা বিভিন্ন সময় আমাকে গালাগাল ও হুমকি দিতেন। পরে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন।
এ ঘটনায় আমি আদালতে মামলা করেছি।’
খলিলের স্ত্রী সাফিয়া বলেন, ‘আমার স্বামী মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় অভিযুক্তরা তাকে অমানুষিক মারধর করেন। অভিযুক্তরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তারা এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা খুব নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক নয়ন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মামলার কপি পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :