ঋণ দেব, গরু দেব’ বলে আমানত নিয়ে উধাও কথিত এনজিও

অনলাইন ড্রেস
ঋণ দেব, গরু দেব’ বলে আমানত নিয়ে উধাও কথিত এনজিও
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর করগাঁও ইউনিয়নে এনজিওকর্মী পরিচয়ে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে এক পুরুষ ও এক নারী সদস্যকে। ছবি: মুঠোফোনে স্থানীয়দের তোলা

 

এনজিও পরিচয়ে গ্রামের মানুষকে ঋণ ও নানা সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের আমানত নিয়ে একটি কথিত এনজিও উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের।

 

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কষ্টে জমানো টাকা হারিয়ে দিশাহারা তারা।

এ ঘটনায় নার্গিস আক্তার নামের এক নারী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে একজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

অভিযোগকারী নার্গিস করগাঁও ইউনিয়নের ভাট্রা গ্রামের শহীদ মিয়ার স্ত্রী।

অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ভাট্রা, মিরেরপাড়া, মাগুরাসহ কয়েকটি গ্রামে চার-পাঁচজনের একটি দল নিজেদের এনজিওকর্মী পরিচয় দেয়। তারা মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য নিজেদের জয়িতা ফাউন্ডেশনের লোক পরিচয় দিয়ে মোবাইলে নানা ছবি ও ভিডিও দেখায়।

 

 

একপর্যায়ে এনজিও থেকে ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয়ের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন।

সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের প্রলোভনে পড়ে অনেকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমানত সংগ্রহ করে। পরে স্থানীয় মানিকখালী বাজারে তাদের কার্যালয় রয়েছে দাবি করে একদিন পর গ্রাহকদের সেখানে যেতে বলেন। তবে গত সোমবার ২০-৩০ জন নারী সেখানে গিয়ে কাউকে পাননি। পরে তাদের দেওয়া মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

পরে তারা প্রতারিত হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন।

অভিযোগকারী নার্গিস আক্তারের দাবি তার কাছ থেকে আমানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেন অভিযুক্তরা। এ ছাড়া একই এলাকার সুকেল মিয়ার স্ত্রী সেলিনার ৩০ হাজার, মাগুরা গ্রামের রোজিনার ৪০ হাজার, আরেকজনের ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

নার্গিস আক্তার বলেন, ‘তিল তিল করে জমানো টাকা নিয়ে ওরা উধাও হয়ে গেছে। ফোন করলে নম্বর সব বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এখন আমাদের সব শেষ হয়ে যাওয়ায় চিন্তার মধ্যে আছি।’

 

সেলিনা নামের আরেক নারী বলেন, ‘ডিম-মুরগি বেঁচে জমানো টাকা দিলাম তাদের কথা বিশ্বাস কইরা। এনজিওর লোক তো এভাবেই আসে এলাকায়। আসল-নকল আমরা সাধারণ মানুষ চিনতে পারি না। আমরা টাকা উদ্ধার করার দাবি ও কঠিন বিচার চাই।’

 

করগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাদিম মোল্লা বলেন, ‘এ বিষয়ে ঘটনার পর একজন ভুক্তভোগী আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। পাশাপাশি আর কখনও যাতে এলাকায় এমন প্রতারণা না হয়, মানুষকে সচেতন করব।’

 

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র এনজিও পরিচয়ে অপকর্ম করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা জরুরি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।