শরীয়তপুরে নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে এআই প্রযুক্তির ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। শহরের তিনটি প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ ছাড়াও পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন এআই নজরদারির আওতায় থাকবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর শহরের ১৪ কিলোমিটার এলাকা এখন এআই ক্যামেরার আওতায়।
তিনটি প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথে বসানো হয়েছে ১২০টি ক্যামেরা। পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজারসহ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সরকারি কলেজ-বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও এ নজরদারির অন্তর্ভুক্ত।
কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া অংশে নৌপথেও যুক্ত হয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা। ক্যামেরাগুলোতে যুক্ত রয়েছে এআই প্রযুক্তি।
সন্দেহজনক চলাচল, যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অপরাধমূলক তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক সংকেত যাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশও এই মনিটরিং সুবিধা ব্যবহার করবে।
শহরের ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কীর্তিনাশা নদীঘেঁষা এ শহর দিয়ে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরমুখী সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল মানুষের চলাচল হয়।
সম্প্রতি শহরে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও সংঘর্ষসহ একাধিক ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করে। গত ২৩ ডিসেম্বর শহরের চৌরঙ্গির মোড়ে ককটেল বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে দুইটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের দুটি দানবাক্স ভেঙে টাকা লুটের ঘটনা আলোচনায় আসে।
এর আগে কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে সাতজন ডাকাত নিহত হন। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও সামনে আসে। এ প্রেক্ষাপটেই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ স্কাউট জেলা সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, শহরে এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নজরদারির আওতায় আসায় সাধারণ মানুষও স্বস্তি পাবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে নজরদারির পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা থাকলে এই প্রকল্প আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ফল দেবে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, শহরের বিভিন্ন সড়কে নানামুখী অপরাধ ঘটে থাকে। আইনশৃঙ্খলা সভায় বসলে এসব বিষয়ই বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুলের আশপাশে ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকসেবীদের আড্ডা, চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও মারামারির মতো ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকায় ১২০টি পয়েন্টে ১২০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ শহরে প্রবেশ করলেও যেন তাকে শনাক্ত করা যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, সব ফুটেজ রেকর্ড থাকবে। এর লিংক পুলিশকে দেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসনের নিজস্ব সার্ভারেও সংরক্ষণ করা হবে। অন্তত এক মাসের ফুটেজ সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই কাভারেজ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব কাজ শেষ হলে আগামী ৮ তারিখ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।