গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহ আসলে কোন দলের সমর্থক
বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, কে এই সিফাত আব্দুল্লাহ?
২০ বছর বয়সী সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সন্তান হলেও বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুট টিনের মসজিদ এলাকায় নিজেদের বাড়িতে মা ও বোনের সঙ্গে বসবাস করেন বলে দৈনিক কালেবেলার এক ভিডিও প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ সিকান্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে গুরুতর অসুস্থ ও কর্মহীন।
স্বজনদের দাবি, পারিবারিক অসুস্থতা এবং লোডশেডিংয়ের মধ্যে দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকার ‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার মানসিক চাপ থেকেই এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই আপত্তিকর ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন সিফাত।
বিষোদ্গারের পর বৃহস্পতিবার রাতে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গাজীপুর মহানগর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানী।
তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তদন্ত করে জানিয়েছে, তিনটি মিটার মিলিয়ে সিফাতদের বাড়ির বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিক ছিল। এতে কোনো অসংগতিও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে সিফাতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। গাছা থানার ওসির দাবি, সিফাত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য এবং গোপন নাশকতার অর্থদাতা। বিপরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, সিফাত জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় যোদ্ধা।
এমনকি সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে থানায় অবস্থানও নেয় এনসিপি। একই সঙ্গে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইস্যু করার হুঁশিয়ারি দেন দলটির মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে সিফাতের মামলার আইনি দিক নিয়ে। ২৭ জুনের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছটিকা মিছিলের মামলায় কোনো এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও সিফাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৫৩ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দিলে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির ধারা থাকলেও বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিধান রাখা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় বড়জোর দণ্ডবিধির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে মানহানির মামলা করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনটি অতীতের মতো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাজীপুরের সিফাতকে এই আইনের পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোনো ভালো কাজ করা হয়নি। এটি অতি উৎসাহী পুলিশের কর্মকাণ্ডও হতে পারে। তবে এমনটি করা হলেও এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাহিন মাহমুদের বিরুদ্ধেও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়।
এ ছাড়া গত জুন মাসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করা হয়।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :