দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন কুড়িগ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা রিজভীর স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির খবরে কুড়িগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদকের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে রিজভীসহ চার নেতাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করার তথ্য জানানো হয়েছে।
দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন রিজভী। দীর্ঘ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে পথচলা
কুড়িগ্রামের সন্তান রুহুল কবীর রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবন থেকেই।
রাজশাহী কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বেও আসেন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী।পরবর্তী সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত মুখ কুড়িগ্রামের এই সন্তান।
হামলা-মামলা ও কারাবরণ
বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে রিজভীর রাজনৈতিক জীবনে এসেছে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের নানা ঘটনা।
২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে কারাগারে থাকতে হয়।
২০২৩ সালের এপ্রিলে কারামুক্ত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা বহু মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কারাগারে থাকা অবস্থাতেও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি রিজভী। দলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কারাগারের বাইরে থাকা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত ছিল।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘কারাগারে থাকাকালে মৃত্যুও যদি হয়—সেই মৃত্যুকেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। রাজনীতিতে কোনো অন্যায় চাপের কাছে আপস করেননি, কোনো ভয়-ভীতিকে গুরুত্ব দেননি। দলের দুঃসময়ে তিনি যেভাবে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন, তা সত্যিই বিরল। সময়ের সঙ্গে রিজভী ভাইয়ের মতো নেতা বিএনপিতে অবশ্যই বিরল হয়ে থাকবেন।’
রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই আমরা তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখেছি। এত হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের পরও তিনি দল থেকে বিচ্যুত হননি। এত ত্যাগ যার, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে তার মূল্যায়ন হওয়াটা স্বাভাবিক। কুড়িগ্রামের মানুষ হিসেবে আমরা এতে আনন্দিত ও গর্বিত।’
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘রুহুল কবীর রিজভী শুধু কুড়িগ্রামের নয়, বিএনপির দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। হামলা-মামলা ও কারাবরণের পরও তার রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। স্থায়ী কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি।’
রাজপথ থেকে নীতিনির্ধারণী ফোরামে
দলের বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তর পরিচালনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন রুহুল কবীর রিজভী।
কুড়িগ্রামের সন্তান হিসেবে তার এই অর্জনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন রিজভী।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।



















আপনার মতামত লিখুন :