নরসিংদীর রায়পুরায় চুরির অভিযোগে হৃদয় মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সহযোগী কামাল মিয়া (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের সাচিয়াপাড়া এলাকায় সৌদি প্রবাসী আব্দুল সালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত হৃদয় একই ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি এলাকার ধানু মিয়া ছেলে এবং আহত কামাল একই এলাকার মধু মিয়া ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সৌদি প্রবাসী আব্দুল সালাম দশ দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তার দেশে আসার খবর পেয়ে রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্থানীয় একটি চোরচক্রের চার সদস্য তার বাড়িতে চুরি করতে আসে।
এ সময় হৃদয় মিয়া ও তার সহযোগী কামাল মিয়া প্রবাসীর বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। চক্রের অপর দুই সদস্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন।
পরে বাড়ির সদস্যরা চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় হৃদয় ও কামালকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়।
এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয় মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কামাল মিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এক বছর আগে তাকে এসব অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পরে জেলগেট থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি।
পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফুল মিয়া জানান, হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর চাপের মুখে কিছুদিনের জন্য তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে একই ধরনের অপরাধে জড়ানোর অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও চুরিতে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি আরো জানান, রাত ৩টার দিকে পাড়াতলী ইউনিয়নের সাচিয়াপাড়া এলাকার প্রবাসী আব্দুস সালামের একটি ভবনে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন হৃদয় ও তার সহযোগী কামাল। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দুজনকে আটক করেন। পরে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে হৃদয় গুরুতর আহত হন এবং তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার জানান, সোমবার সকালে দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে হৃদয় নামের একজনের হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়। অপর ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবর রহমান বলেন, চুরি করার সময় স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে মারধর করেন। ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এক বছর আগে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগা
রে নেওয়ার সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে গিয়েছিল।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।



















আপনার মতামত লিখুন :