রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

এলপিজি অটোগ্যাস খাতে নীতিমালা সহায়তার দাবি

অনলাইন ড্রেস / ২৩ প্রকাশিত সময়:
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভায় এলপিজি অটোগ্যাস খাত রক্ষায় নীতিমালা সহায়তা, সরবরাহ নিশ্চয়তা এবং লাইসেন্সিং জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

 

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএসের রাওয়া ক্লাবের অ্যাংকর হলে অনুষ্ঠিত সভায় এলপিজি অটোগ্যাস খাতের সম্প্রসারণ, সরবরাহ সংকট নিরসন, লাইসেন্সিং জটিলতা দূরীকরণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

সভায় সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবেলায় সরকার পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি অটোগ্যাস ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়ে ‘অটোগ্যাস নীতিমালা-২০১৬’ প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় বর্তমানে দেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে এবং প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ খাতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট, এলএনজি ও তরল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এলপিজি বাংলাদেশের জন্য কার্যকর বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তবে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সহায়তা ও রেগুলেটরি সহযোগিতার অভাবে খাতটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সভাপতি আরও বলেন, দেশের স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি না হলে যেকোনো সময় সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। মাসে প্রায় ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

 

 

সভাপতি আরও বলেন, ‘সিএনজির তুলনায় এলপিজির দামে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী এলপিজি থেকে সরে গিয়ে আবার সিএনজির দিকে ঝুঁকছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ বলেন, বর্তমানে একটি এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তাদের বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। এতে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনের সদস্য ও স্টেশন মালিকরা দ্রুত কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাস্তবতার আলোকে এলপিজি নীতিমালা ও বিধিমালা সংশোধন করে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু ও ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা অটোমেশন করা এবং প্রয়োজনে বিপিসির মাধ্যমে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বক্তব্যে সংগঠনের নেতা বলেন, এলপিজি শুধু বিকল্প জ্বালানি নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই খাতটিকে টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।


More News Of This Category