দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের উত্তরে মোবারকপুর রেলগেট চালু হওয়ার পর থেকেই সেখানে নেই কোনো গেটম্যান। গত তিন বছরে রেলগেটটিতে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজন মোটরসাইকেল আরোহীর। মৃতদের চারজন ছিলেন ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আর একজন ধান ব্যবসায়ী।
ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই মোবারকপুর রেলগেট চালু হয়।
এর পর থেকেই রেলগেটটি অরক্ষিত। তিনি জানান, গত তিন বছরে রেলগেটটি দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।
মোবারকপুর রেলগেটসংলগ্ন চা দোকানি হামিদুল হক জানান, রেলগেটটি চালু হওয়ার পর থেকেই রেলওয়ের যাত্রীবাহী ১২টি ডাউন এবং ১২টি আপ ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময় চলাচল করে মালবাহী ট্রেন। এই রেলগেট দিয়ে ফুলবাড়ী সদরের সঙ্গে সড়ক পথের যোগাযোগ রয়েছে প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের। এজন্য এ সড়ক পথে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষকে ওই রেলগেট দিয়ে রেললাইন পার হতে হয়। এ ছাড়া রিকশাভ্যান, অটোরিকশা ও চার্জারভ্যানেসহ মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
হামিদুল হক বলেন, রেলগেটটিতে গ্যাটম্যান না থাকায় এ পথে চলাচলকারী অনেকে ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে।
রেলগেটের পাশের গ্রাম পাথরাপাড়ার রিকশাভ্যানচালক আব্দুল রহিম বলেন, গত দুই মাস আগে একজন মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেট পার হচ্ছিলেন। এ সময় পার্বতীপুর থেকে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ব্যক্তি। পরে জানা যায় লোকটি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন।পার্শ্ববর্তী ঢেড়েরহাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, মোবারকপুর রেলগেট পারাপার হয়ে প্রতিদিন ফুলবাড়ীতে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু গেটম্যান না থাকায় কখন ট্রেন চলে আসে- তা কেউ জানে না। আবার বোঝার উপায়ও থাকে না কখন কোন দিক থেকে ট্রেন আসবে। অনেক সময় লাইনের ওপর উঠে ট্রেন দেখে তড়িঘড়ি করে পার হতে হয়। এ সময় ট্রেন কাছাকাছি চলে এলে মৃত্যু ছাড়া পথ নেই। তিনি জানান, চোখের সামনে তিনি দুইটি ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু দেখেছেন। যানমালের নিরাপত্তার জন্য ব্যস্ততম রেলগেটটিতে গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।
মোবারকপুর এলাকার রেললাইনের তদারকির দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান বর্তমানে কীম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী মাহাবুবুল আলম জানান, তিনি রেললাইনের ছোটখাটো ত্রুটি মেরামত ও লাইনের দুই পাশের আগাছা পরিষ্কার করে থাকেন। তবে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। তিনি বলেন, গেটম্যান না থাকায় মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। গেটম্যান থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না।
পার্বতীপুরের উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডাব্লিউআই-পথ) শেখ আল আমিন বলেন, মোবারকপুর রেলগেটটি বি গ্রেডের রেলগেট। এখানে গেটম্যান নিয়োগ চাইলে এলাকাবাসীকে রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহী বরাবর আবেদন করতে হবে। তিনিই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।