আউলিয়া হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন দর্শনার্থী। তাদের মধ্যে মো. আলাউদ্দিন আহম্মেদ নামের একজন ছিলেন। সাভারের বাসিন্দা আলাউদ্দিন আগে সুযোগ পেলেই মাজারে ছুটে আসতেন। তিনি বললেন, ‘মাজারে এখন নিরাপদ লাগে না। মানুষ আসে না। ভক্ত পাগল-ফকিররা এখন মাজারে না এসে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে।’
ঢাকার হাইকোর্ট এলাকায় হযরত হাজি খাজা শাহবাজ (রহ.) মাজার, রমনার খাজা শরফুদ্দীন চিশতি (রহ.) মাজার, আজিমপুরের দায়রা শরিফ, পুরানা পল্টন মোড়ে পীর ইয়ামেনি (রহ.) মাজার, গুলিস্তানে গোলাপশাহ্ মাজার, চকবাজারে শাহ নেয়ামত উল্লাহ বুরাইন চিশতি (রহ.) মাজার এবং মিরপুর-১-এ অবস্থিত হযরত মুসা শাহ (রহ.) মাজারেও আগের চেয়ে অনুষ্ঠান ও দর্শনার্থী হ্রাস পেয়েছে। আগে এসব মাজারে থাকা দুস্থ মানুষদের দুই বেলা খাবার দেওয়া হলেও এখন কোনো কোনোটিতে খাবার বিতরণ বন্ধ রয়েছে।
সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, মাজারে হামলায় দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ইন্ধন ছিল। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের প্রতি অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
মাজারে হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘কারো মতাদর্শ পছন্দ না হলে, তাদের ওপর হামলা করার এ ঘৃণ্য অপরাধ বন্ধ করতে হবে। বিচার হলে এ ধরনের হামলা বারবার হতো না। তাই বিচার হতেই হবে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি জন-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’