রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
দৈনিক দেশের প্রত্যয় প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

বেহাল শিক্ষা, অন্যদিকে নজর মন্ত্রণালয়ের

অনলাইন ডেক্স / ২৪ প্রকাশিত সময়:
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

মহামারি করোনার পর ছাত্রছাত্রীদের এখনো শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত করা যায়নি। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা। ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণিকক্ষের চেয়ে রাস্তায়ই বেশি সময় কাটিয়েছে। শিক্ষকরা নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।শিক্ষকদের নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। শিক্ষার কোনো কোনো ধারায় পুরো শিক্ষকতা জীবনেও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকে না তাদের। শিক্ষকদের নেই পর্যাপ্ত বেতন-মর্যাদাও।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতানুগতিক ধারার পড়ালেখা করে চাকরি পাচ্ছে না তরুণ-তরুণীরা।

স্কুলগুলোতে ২০১২ সালের কারিকুলামেই চলছে পাঠদান। যুগোপযোগী হয়নি কারিকুলাম। ব্যাঙের ছাতার মতো বিশ্ববিদ্যালয় গজিয়ে উঠলেও বেশির ভাগের শিক্ষার মানের বেহাল দশা। দিনে দিনে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে দেশে।
সমস্যার যেন শেষ নেই শিক্ষা সেক্টরে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হাঁকডাক ছাড়া কার্যকর তেমন কোনো উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার চেয়ে পরীক্ষা নিয়েই তৎপরতা বেশি শিক্ষামন্ত্রীর। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস)

গবেষণা বলছে, প্রাথমিকের তৃতীয় শ্রেণির ৭৬ শতাংশ ও চতুর্থ শ্রেণির ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো বাংলা পড়তে পারছে না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এ দেশের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করছে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সপ্তম শ্রেণির সমতুল্য।আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইংরেজি ও গণিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে না পারার চিত্র। তথ্য বলছে, ইংরেজিতে ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঘাটতি রয়েছে। গণিতে ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ৩৩ শতাংশের নিচে স্কোর অর্জন করেছে।

 

শিক্ষার দশা বেহাল হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকরী তেমন কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের নজর যেন অন্য কিছুতে। মন্ত্রণালয় শুধু পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, কর্তাব্যক্তিরা ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে শেখানোর পরিবর্তে পরীক্ষাকেন্দ্রিক হিসেবে গড়ে তুলছেন- এটি ভালো ফল বয়ে আনবে না। চলমান শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণ-তরুণীরা উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরির বাজারে ভালো

করতে পারছে না। ২০১২ সালের কারিকুলামেই চলছে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কারিকুলাম উন্নয়নের কোনো নির্দেশনা আসেনি।

দেশে পাবলিক-প্রাইভেট মিলে মোট ১৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় পড়াশোনা নেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তথা উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। গত বছর প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন ও পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণ’ বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের তথ্যমতে প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত। দেশে কারিগরি শিক্ষা ধারা থাকলে এ ধারা বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। দেশে বর্তমানে ১১৬টি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগে চাকরির সঙ্গে সংগতি রেখে পড়াশোনা নেই।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এসে যাচাইবাছাই শেষে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে প্রস্তাব পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেন বলেন, শেষ সময়ে এসে এমপিওভুক্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া দুঃখজনক। আমরা আশা করব, চলতি অর্থবছরেই বর্তমান সরকার এমপিওভুক্তি করবে এসব প্রতিষ্ঠান।

ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ভিত গঠন করে দেন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অথচ দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনো বিবেচিত হচ্ছেন কর্মচারী হিসেবে। তারা বেতন পান ১৩তম গ্রেডে। দীর্ঘদিন থেকে এ শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর অবসরে যাচ্ছেন কোনোরকম পদোন্নতি না পেয়েই। ২০০৯ সাল থেকে তাদের পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, সবাই মুখে মুখে শিক্ষকতাকে সম্মানজনক পেশার মর্যাদা দিলেও বাস্তবে তাদের অবহেলায় রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের আন্দোলন করে আসছেন। আদালতের রায়ে প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড পেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডেই পড়ে আছেন। এ ব্যাপারে সরকারও নিশ্চুপ।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, শিক্ষায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। শিক্ষায় সংখ্যাগত কিছু উন্নয়ন হলেও মানের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। অতীতে বেশ কিছু প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলো কার্যকরী হয়নি। শিক্ষার উন্নয়নে কনসালটেশন কমিটির যে প্রতিবেদন আমরা দিয়েছিলাম তা সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর আর গুরুত্ব পাচ্ছে না।

এ শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষার বেহাল দশা থেকে উত্তরণের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার। একই সঙ্গে শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করে এ অর্থ যথাযথভাবে খরচ নিশ্চিত করতে হবে।

২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা

বোর্ড চষে বেড়াচ্ছেন। গত ২০০১-০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি নকল প্রতিরোধে ভূমিকার কারণে প্রশংসিত হয়েছিলেন। শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে পড়ালেখার ধরন বদলেছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নকলের সুযোগ কম। আর গত এক যুগে নকল অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে। অথচ শিক্ষামন্ত্রী এখনো নকলের পেছনেই পড়ে রয়েছেন। প্রতিটি সভা-সমাবেশে আগের মতো নকল প্রতিরোধের কথা বলছেন।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এখনো দুই দশক পেছনেই পড়ে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াসহ পরীক্ষা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি পঞ্চগড়ে ও নীলফামারীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন

এসএসসির একদল পরীক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি থাকতেই পারে। কিন্তু মন্ত্রী যেভাবে সিসি ক্যামেরাসহ নানা আয়োজন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন তা কোনোভাবেই  কাম্য নয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে। এ দুই বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সরকার পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক হয়নি। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষানির্ভর

হয়ে গেছে। এটি হতে হবে শিখননির্ভর। ক্লাসে শেখাতে হবে ছাত্রছাত্রীদের।

তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকের মানোন্নয়ন জরুরি। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। দুর্নীতির বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এ নিয়েও চলছে সমালোচনা। কারণ অনেক পরিবারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একাধিক থাকলেও অনলাইন ক্লাস করার ডিজিটাল ডিভাইস একাধিক নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তিও।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সিলেটে গিয়ে

এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘৭০০-৮০০ স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলাম। একজনও অনলাইন ক্লাস চায় না। আমিও চাই না।’ এরপরও শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে যাচাইবাছাই না করে ফের অনলাইন চালু করা হলো। অথচ আরও অনেক বিকল্প ভাবা যেত। অনলাইন শিক্ষার ফলাফল কেমন হয় তা আমরা করোনা পরবর্তী সময়ে দেখেছি। এর মাধ্যমে ডিভাইস আসক্তি বাড়বে। তিনি বলেন, এ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার উন্নয়নে ১২ দফা প্রস্তাবনা দেন। কিন্তু এরপর অবাক হয়ে দেখলাম তারা শুধু পরীক্ষাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আসলে তারা কোন পথে হাঁটছেন তা বোধগম্য নয়।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নানা অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য জানতে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার তাঁর মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন


More News Of This Category