পণ্যবাহী গাড়ির পেছনে সন্তানের আঁকা ছবি। ছবির পাশে বাবার উদ্দেশে ছোট্ট কোনো বার্তা—‘সাবধানে গাড়ি চালাবেন’, ‘নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন’।
চালকদের সচেতন করতে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উর্মি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের পেছনে এখন চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ও তাদের লেখা বার্তা স্থান পাচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের আশা, গাড়ি চালানোর সময় পেছনে সন্তানের ছবি ও বার্তা চালকদের পরিবারের কথা মনে করিয়ে দেবে। এতে তারা আরো সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফেরার তাগিদ অনুভব করবেন।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ৭ হাজার ৮৩৭টি যানবাহনের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৯টি ছিল ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এবং ৩৭০টি পিকআপ। অর্থাৎ দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের প্রায় ২২ শতাংশই ছিল এসব পণ্যবাহী যান।
পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের দুর্ঘটনাঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চালকদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে পরিবারের আবেগের সম্পর্ককে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উর্মি গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ উদ্যোগের অনুপ্রেরণা জাপানের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মিয়াতা উনইউর ‘চিলড্রেনস মিউজিয়াম প্রজেক্ট’।
একটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি চালকদের সন্তানদের আঁকা ছবি ট্রাকে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ছয় বছরে ৮৭টি গাড়িতে শিশুদের ছবি যুক্ত করার পর দুর্ঘটনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে। পরে ২০১৯ সালে উদ্যোগটি একটি স্বতন্ত্র সংগঠনের কার্যক্রমে রূপ নেয় এবং জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে পণ্যবাহী গাড়ির পেছনে বিভিন্ন ছবি, বাক্য ও শিল্পকর্ম ব্যবহারের প্রচলন দীর্ঘদিনের। সেই প্রচলিত জায়গাটিকেই চালক ও তার পরিবারের মধ্যে আবেগের সংযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান উর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ।
আসিফ আশরাফ বলেন, ‘জাপানের একটি সেমিনারে অংশগ্রহণের সময় আমি বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবন করি। একটি শিশুর আঁকা ছবি একজন চালককে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়—তার নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় একটি পরিবার রয়েছে। এই ভাবনা থেকেই আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গাড়িতে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করি এবং ইতিবাচক সাড়া পাই। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন উর্মি গ্রুপের পরিবহন ব্যবস্থায় এটি আরো বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও তাদের পরিবার জড়িত। তাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, উদ্যোগটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়লে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আরো সচেতনতা তৈরি হতে পারে।
উর্মি গ্রুপ জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তা উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। চালকদের সচেতনতা ও ব্যক্তিগত দায়বোধ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।















আপনার মতামত লিখুন :