|
Getting your Trinity Audio player ready...
|

*সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২: সর্বকালের রেকর্ড বকেয়া আদায়ে মাঠে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা*
*কমসার শামীম হোসেন: “কঠোর পরিশ্রম করছি, ইনশাআল্লাহ সফল হব”*
*মোঃ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | দেশের প্রত্যয়*
*সিরাজগঞ্জ:* গ্রাহকের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। সমিতির ইতিহাসে এবারই সর্বকালের সর্বোচ্চ বকেয়া জমে গেছে। বকেয়া টাকার পাহাড়ে সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম। তবে হাল ছাড়েননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুন মাসের বকেয়া আদায়ে তারা নিয়েছেন কঠোর কর্মসূচি।
*মাঠের চিত্র – বকেয়ার বোঝা কত ভারী*
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, খামার উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও কাজিপুর চৌহালী উপজেলার কয়েক লাখ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসেই বকেয়া বিলের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
বকেয়ার কারণে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড BREB-কে বিল পরিশোধে চাপ বাড়ছে সমিতির উপর। অন্যদিকে গ্রাহকদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ফলে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা “বকেয়া আদায়ে অক্ষম” হয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।
*কমসারের বক্তব্য – হাল ছাড়ছি না*
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর *কমসার শামীম হোসেন* দেশের প্রত্যয়কে বলেন,
“হ্যাঁ, বকেয়া অনেক বেড়েছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা বসে নেই। প্রত্যেক দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনম্যান, মিটার রিডার, বিলিং সুপারভাইজারসহ সব কর্মচারী মাঠে নেমেছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বকেয়া বিলের তাগাদা দিচ্ছি, গ্রাহকদের বোঝাচ্ছি”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যে বিশেষ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি—সেখানে এলাকাভিত্তিক টিম করে, রাতেও অভিযান চালিয়ে বকেয়া আদায়ের চেষ্টা চলছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব। এই বকেয়া আদায় হলে শুধু সমিতি না, পুরো পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডই উপকৃত হবে। বিদ্যুৎ সেবা আরও মানসম্মত হবে”।
*আদায় অভিযানে যা করছে সমিতি*
বকেয়া আদায় বাড়াতে সমিতি ৪টি পদক্ষেপ নিয়েছে:
1. *এলাকাভিত্তিক টিম:* প্রতিটি উপজেলায় ৫-৭ সদস্যের টিম। তারা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাঠে থাকছে
2. *লাইন বিচ্ছিন্ন অভিযান:* টানা ৩ মাস বকেয়া থাকা গ্রাহকের লাইন কেটে দেয়া হচ্ছে। জুন মাসে ২ হাজার+ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
3. *মাইকিং ও নোটিশ:* ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে গ্রাহকদের সচেতন করা হচ্ছে। SMS এর মাধ্যমে বিলের কথা মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে
4. *কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ:* বেশি বকেয়া থাকলে আবেদনের ভিত্তিতে কিস্তিতে টাকা নেয়া হচ্ছে, যাতে গ্রাহকের চাপ কমে
*গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান*
কমসার শামীম হোসেন গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিদ্যুৎ বিল সরকারি পাওনা। এটা না দিলে নতুন ট্রান্সফরমার, তার, খুঁটি কেনা সম্ভব না। আপনারা সময়মতো বিল দিন। আমাদের কর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। তারা আপনাদের সেবার জন্যই কাজ করছে। একসাথে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব”।
*শেষ কথা – সেবা টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা চাই*
পল্লী বিদ্যুৎ মানে গ্রামের বিদ্যুৎ। আর বিদ্যুৎ মানেই উন্নয়ন। বকেয়া টাকা জমে থাকলে সেই উন্নয়ন থেমে যাবে। তাই কমসার শামীম হোসেনের নেতৃত্বে কর্মী-কর্মকর্তাদের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাতেই হয়।
আর গ্রাহক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব—সময়মতো বিল দেয়া। কারণ আপনার দেয়া ১০ টাকার বিল থেকেই আসবে আপনার এলাকার পরের ট্রান্সফরমারটা।
*পরামর্শ:* বকেয়া বিল থাকলে দ্রুত নিকটস্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন। লাইন কাটার আগে বিল দিন—জরিমানা বাঁচান।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।















আপনার মতামত লিখুন :